দর্শনার্থীরা জানান, জাতীয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জাদুঘরের উদ্বোধন হওয়ায় সেদিনই অন্তত কয়েক ঘণ্টার জন্য সাধারণ মানুষের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেকেই উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি দেখার প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলেন। তাই উদ্বোধনের পর গেট খুলে সীমিত সময়ের জন্য হলেও দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দিলে মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটত। একই সঙ্গে আজকের দিন থেকে অন্তত জাদুঘরে ৫০ টাকা প্রবেশমূল্য নির্ধারণের বিষয়টিও পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।
শরীফুল ইসলাম নামের এক দর্শনার্থী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পদ নয়, এটি পুরো জাতির অর্জন। তাই এই জাদুঘরও জনগণের জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত। সরকার ৫০ টাকা প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। অনেক মানুষ পরিবার নিয়ে আসবেন, শিক্ষার্থীরা আসবে, নিম্ন আয়ের মানুষও ইতিহাস জানতে চাইবেন। তাদের জন্য এই প্রবেশমূল্য একটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আমরা চাই, দেশের প্রতিটি মানুষ যেন সহজেই এই জাদুঘরে এসে জুলাইয়ের ইতিহাস জানতে পারে, শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সেই ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে।
রামপুরা থেকে আসা দর্শনার্থী কামাল আহমেদ বলেন, আমরা এসেছি জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি কাছ থেকে দেখতে এবং যারা জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে কয়েকশ টাকা খরচ করে এসেছেন। উদ্বোধনের দিন মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সীমিত সংখ্যায় হলেও প্রবেশের সুযোগ দিলে ভালো হতো। এতে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে, সেটি তৈরি হতো না।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং প্রদর্শনী স্বাচ্ছন্দ্যে উপভোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জনকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য তিনটি পৃথক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ১১টা, দুপুর ১টা এবং বিকেল ৪টার তিনটি স্লটে প্রতিবার ৩০০ জন করে প্রবেশ করতে পারবেন। টিকিট কাউন্টার ও অনলাইন—উভয় মাধ্যমেই সংগ্রহ করা যাচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিনই নির্ধারিত দর্শনার্থীসংখ্যা ও সময়সূচি অনুসরণ করেই প্রবেশের ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। দর্শনার্থীদের ভিড় এড়াতে আগাম অনলাইনে টিকিট সংগ্রহেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে সেই সময়ের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এই জাদুঘর। এখানে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত সামগ্রী এবং ঘটনাপ্রবাহভিত্তিক নানা তথ্য-উপাত্ত প্রদর্শন করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার জাতীয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ওই দিন জাদুঘরটি শুধু শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। তবে অনেক সাধারণ মানুষ উদ্বোধনের দিনই জাদুঘর পরিদর্শনের আশায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেখানে ভিড় করেন। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ শুরু হবে ৬ আগস্ট থেকে।
উদ্বোধনের দিন সাধারণ মানুষের প্রবেশের অনুমতি না থাকায় জাদুঘরের সামনে কিছুটা অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক দর্শনার্থী উদ্বোধনের দিন অন্তত সীমিত সময়ের জন্য প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। পরে কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে জানায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৬ আগস্ট থেকেই জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য