চৌদ্দগ্রামে এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। আজ উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন শুরুর প্রাক্কালে তার পাশে দেখা গেছে গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও বাসে পেট্রোলবোমা মেরে ৮ জন হত্যার মামলার অন্যতম আসামি আওয়ামী লীগ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদারকে।
উল্লেখ্য যে, সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদারের বিরুদ্ধে গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চৌদ্দগ্রাম থানার সামনে পুলিশ ও দলীয় ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাযজ্ঞে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় ৫ আগস্ট থানার সামনে শহীদ হন জামসেদুর রহমান।
এ ছাড়া ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রামের নোয়াবাজারে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় ৮ যাত্রী নিহত হন। এই মামলায় সালাহউদ্দিন আহমেদ ১১নং এবং তার ছেলে নেয়ামত উল্লাহ মজুমদার ৭৯নং আসামি।
গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা শহরের একটি গোপন আস্তানা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে এবং তার ছেলে যুবলীগ নেতা নেয়ামত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারীকে ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যার পেছনেও এই আওয়ামী লীগ নেতার সম্পৃক্ততা ছিল।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদার দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে জামায়াত নেতার ছায়ায় প্রকাশ্যে আসায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই একে ‘ভোটের রাজনীতির নীতিহীন কৌশল’ হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের মতে, যেখানে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি, সেখানে সেই অপরাধে অভিযুক্তদের ‘অভিভাবক’ হিসেবে গ্রহণ করা শহীদদের প্রতি অবমাননা।
পেশিশক্তির দাপট ধরে রাখতে এবং ভোট ব্যাংক ভারী করতে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে জামায়াতের এই নতুন ‘মৈত্রী’ নির্বাচনের মাঠে নতুন কোনো সংকটের জন্ম দেয় কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য