ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই নির্বাচনে মানুষের রায়ে তার দল এককভাবে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। তিনি জানান, দেশের মানুষ যদি তাদের রায় আমাদের দলের প্রতি দেয়, তাহলে এককভাবে সরকার গঠনের সক্ষমতা থাকবে, ফলে কাউকে অপজিশনে থাকা প্রয়োজন হবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের রায় আমরা পাবো। আমরা সরকার গঠনে এককভাবে সক্ষম হবো। একসময় যদি সবাই সরকারে চলে আসে, তাহলে কিভাবে দেশের সমন্বিত কার্যক্রম চলবে? তাই ব্যালেন্সড রাষ্ট্র ও সরকার প্রয়োজন, যেখানে অপজিশনে থাকা দলও থাকতে হবে।’
সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচনের পাশাপাশি ভূ-রাজনীতি, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব এবং গুম-খুনের বিচারসহ নানা বিষয়েও মন্তব্য করেছেন।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন,‘আমরা আশা করি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। মানুষের প্রত্যাশা একই রকম। আমরা আশাবাদী যে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে।’
নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে ফিরে আসাকে জীবনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘১৭ বছর নির্বাসনের পর দেশে ফিরে আসা এবং নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল। আসার পর মানুষের প্রত্যাশা চোখে-মুখে দেখতে পেয়েছি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত দুঃখও সহ্য করতে হয়েছে। পাঁচ দিনের মধ্যে আমার মায়ের মৃত্যু হয়, যিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ব্যক্তিগত কষ্ট একসাথে সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু মোটামুটি আমি তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি।’
আসন্ন নির্বাচনে তরুণ ও প্রথমবার ভোটারদের ভূমিকার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘আমাদের মেনিফেস্টোতে সমাজের তরুণদের, বয়স্কদের, চল্লিশ লাখ প্রতিবন্ধীর পাশাপাশি দেশের অর্ধেক নারী জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন করার পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, দেশকে সকলের অংশগ্রহণে গঠন করা হবে।’
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘যদি কোনো চুক্তি বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি হয়, তাহলে তা যেকোনো দেশের সঙ্গেই হোক না কেন, স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব তৈরি হবে। আমি আমার দেশের মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করি, তাই তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন,‘বর্তমান বিশ্বে একদেশ একা থাকতে পারে না। পৃথিবী এখন গ্লোবাল ভিলেজ। আমাদের মানুষ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে, চাকরি করবে এবং যেখানেই আমাদের স্বার্থ থাকবে, সেখানেই আমাদের সম্পর্ক সুসম্পর্কে থাকবে।’
আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে পারা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন,‘রাজনীতি মানুষের জন্য। মানুষের সমর্থন ছাড়া কেউ কোনো শক্তি প্রয়োগ করে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবে না। ৫ অগাস্টের ঘটনাই এর উদাহরণ।’
দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘দুর্নীতি এবং ব্যাংক ডিফল্ট এক নয়। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং ন্যায্য ব্যাংক ঋণ পাননি। ফলে তাদের ব্যবসা এবং আর্থিক পরিস্থিতিতে ডিফল্ট হওয়া স্বাভাবিক। এর সঙ্গে দুর্নীতির সরাসরি সম্পর্ক নেই।’
গুম, খুন এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকারদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘আমাদের নেতাকর্মীদের এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের মানুষদের গুম-খুনের শিকার হওয়ার বিষয়টি গুরুতর। এমন পরিস্থিতি সভ্য দেশে সহ্য করা যায় না। দেশের আইন অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার থাকা প্রয়োজন।’
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং নির্বাচনের গুরুত্ব, তরুণ ও নারী ভোটারদের ভূমিকা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিশ্রুতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য