সারাদিনের অপেক্ষার পরও ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছেন মানুষ সন্ধ্যায় রাজধানীর সদরঘাটে ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছেন মানুষদের ভিড় ঈদের সময়ের মতো দেখা গেছে। সোহেল আহমেদ নামের এক তরুণ জানান, পরিবারের তিনজনকে নিয়ে সকাল ৯টার দিকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। পাঁচ ঘণ্টার মতো সায়দাবাদ-যাত্রাবাড়ীতে দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ির টিকেট পাননি। তাই তিনি লঞ্চে করে বাড়ি যাচ্ছেন। জীবনে কখনো ভোট দিতে পারেননি, এবার প্রথমবার ভোট দেওয়ার জন্য এই কষ্ট স্বাভাবিক মনে করছেন।
সোহেল জানালেন, ২০১১ সালে ভোটার হয়েছেন, কিন্তু কখনো ভোট দিতে পারেননি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়েও ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। এবার নিজের ভোট নিজের হাতে দেওয়ার আশায় বাড়ি যাচ্ছেন।
সদরঘাটে একইভাবে লাইলি আক্তারও প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন। তিনি বরিশালের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। লাইলি বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার আনন্দে এতটা উত্তেজনা হয়েছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তিনি অফিস থেকে চারদিন ছুটি নিয়ে দুপুরেই ঢাকা ছাড়েছেন।
রাজিব আহসানও পরিবার নিয়ে ভোলার উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, “এবার নির্বাচন যেন দেশজুড়ে ভোট উৎসবে পরিণত হয়েছে। শত কষ্ট হলেও মানুষ গ্রামে পাড়ি জমাচ্ছে শুধুমাত্র নিজের ভোট দেওয়ার জন্য। গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার সেই আবেগ বেশি অনুভূত হচ্ছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সরকার যথেষ্ট চেষ্টা চালাচ্ছে। এবার রাজনৈতিক দলগুলো কতটা সুষ্ঠুভাবে ভোটে অংশ নিতে দেবে, সেটাই দেখার বিষয়। মানুষ দেশের পরিবর্তন চায়।”
এদিকে সদরঘাটে লঞ্চযাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় টার্মিনালের ফল বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, “ভোটকে সামনে রেখে মানুষ ঈদের মতো লঞ্চে বাড়ি যাচ্ছে। গতকালও প্রচণ্ড ভিড় ছিল, আজও অনুরূপ ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিক্রিও বেড়েছে।”
পুরান ঢাকায় দুপুরের পর থেকে যানজট দেখা গেছে। যাত্রীরা সদরঘাটের দিকে গন্তব্য নিয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএ-এর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন জানান, “সদরঘাট থেকে ৩২টি রুটে নিয়মিত যে লঞ্চ চলে, তার থেকে আজ দ্বিগুণ লঞ্চ দেওয়া হয়েছে যাতে যাত্রীরা সুন্দরভাবে বাড়ি পৌঁছাতে পারে। যেমন বরিশালের জন্য প্রতিনিয়ত দুইটি লঞ্চ চলে, আজ সাতটি লঞ্চ ছাড়বে। বেতুয়ার উদ্দেশ্যে ছয়টি লঞ্চ ছেড়ে যাবে। প্রতিটি রুটেই স্পেশাল লঞ্চ দেওয়া হয়েছে। কোনো লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। বড় আকারে ভাড়ার চার্ট টানানো হয়েছে।”
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য