ঢাকার পানিদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও স্যানিটেশন খাতের উন্নয়নে ৩৭ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এ অর্থ স্যানিটেশন সেবা সম্প্রসারণ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, পানিদূষণ হ্রাস এবং ঢাকা ও আশপাশের নদী-খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ ঋণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। পরে সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পানিনিরাপত্তা ও সহনশীলতা কর্মসূচির আওতায় বৃহত্তর ঢাকায় পানিদূষণ কমাতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা জোরদার করা হবে।
কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নিরাপদ স্যানিটেশন সেবার আওতায় আসবেন। পাশাপাশি প্রায় ৫ লাখ মানুষ উন্নত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা পাবেন। দূষণ ও সেবাঘাটতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসব সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের ফলে বর্জ্যপানি ব্যবস্থাপনার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচকভাবে পড়ছে। তাঁর মতে, নতুন এই কর্মসূচি ঢাকার নদী ও খালের পরিবেশগত স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকার মাত্র ২০ শতাংশ বাসিন্দার পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা পাইপের মাধ্যমে সংযুক্ত। ফলে অপরিশোধিত বর্জ্যপানি ও পয়োনিষ্কাশনের ৮০ শতাংশের বেশি আশপাশের নদী ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে।
এছাড়া রাজধানীতে অবস্থিত ৭ হাজারের বেশি রপ্তানিমুখী কারখানা প্রতিদিন প্রায় ২৪০ কোটি লিটার অপরিশোধিত বর্জ্যপানি জলাশয়ে ফেলছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নতুন এ অর্থায়নের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য