মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ‘নো কিংস’ (No Kings) শিরোনামের এই বিক্ষোভের এটা তৃতীয় সংস্করণ। এই র্যালিগুলোতে এর আগেও লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল।
রোববার (২৯ মার্চ) বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আয়োজকরা জানিয়েছেন, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়।
আয়োজকরা বলেছেন, ‘ট্রাম্প একজন স্বৈরশাসক হয়ে আমাদের শাসন করতে চান। কিন্তু এটা আমেরিকা, এবং ক্ষমতা জনগণের—কোনো স্বঘোষিত রাজা বা তাদের কোটিপতি বন্ধুদের নয়।’
হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র এই বিক্ষোভকে ‘ট্রাম্প ডিঅ্যারেঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই বিক্ষোভ নিয়ে কেবল সেই সব সংবাদদাতারাই আগ্রহী যাদের এটি কভার করার জন্য টাকা দেওয়া হয়।’
শনিবার (২৮ মার্চ) দিনভর নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, লস অ্যাঞ্জেলেস, বস্টন, ন্যাশভিল এবং হিউস্টনসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রধান শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। দেশজুড়ে ছোট শহর ও নগরগুলোতেও জনসমাগম ঘটে।
বিকেলজুড়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভকারীরা লিংকন মেমোরিয়ালের সিঁড়িতে অবস্থান নেন এবং ন্যাশনাল মল এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তারা ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের কুশপুতুল প্রদর্শন করে তাদের অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি জানান।
এবারের বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিনেসোটা। সেখানে গত জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে রেনি নিকোল গুড এবং অ্যালেক্স প্রেত্তি নামে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সেন্ট পলে স্টেট ক্যাপিটল ভবনের সামনে আয়োজিত সমাবেশে ডেমোক্র্যাট দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন সেখানে তার অভিবাসন-বিরোধী আইন নিয়ে লেখা গান ‘স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপলিস’ পরিবেশন করেন।
নিউ ইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারেও হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। জনসমাগমের কারণে পুলিশ ম্যানহাটনের ব্যস্ত রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। গত অক্টোবরের বিক্ষোভে শহরটির পাঁচটি বরো মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন লস অ্যাঞ্জেলেসে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার দাঙ্গাকারী রয়্যাল ফেডারেল বিল্ডিং ঘেরাও করে কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে সিমেন্টের ব্লক ছুড়ে মারে। এতে দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানিয়েছে, ফেডারেল কারাগারের কাছে ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ না মানায় আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জনতাকে সরাতে ‘নন-লেথাল’ বা অ-মরণঘাতী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডালাসে পালটা-বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য