সৌর বিদ্যুতে পাঁচ বছরের জন্য 'ট্যাক্স হলিডে' (কর অবকাশ) অথবা নামমাত্র শুল্ক সুবিধা দেওয়া যায় কিনা তা ভেবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন আভাস দেন। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ শিল্পনগরে (এনএসইজেড) অবস্থিত সোনাগাজী ১৩০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বেস) পিপিপি প্রকল্প নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, 'রাজস্বের জন্য আগে বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমদানিতে ন্যূনতম শুল্ক-কর এবং পাঁচ বছরের জন্য ট্যাক্স হলিডে দেওয়া হলে উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন। এরপর পাঁচ বছর পার হলে সরকার স্বাভাবিকভাবেই কর পাবে। আমরা এই বিষয়টি ভেবে দেখছি।
তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার সোলার সরঞ্জাম আমদানি করে বিনিয়োগকারীদের (প্রণোদনাসহ) দিয়ে সফল হয়েছে। বাংলাদেশেও সরকার সরঞ্জাম আমদানি করে দিতে পারে অথবা বেসরকারি খাতকে আমদানির সুযোগ করে দিতে পারে। সোলার ফ্রেম, ফটোকল এবং ব্যাটারি প্রাথমিকভাবে এই তিনটি জিনিসের শুল্ক কমানো নিয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
আগামী জুনের মধ্যে সরকার সৌরবিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা ঘোষণা করবে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, সরকার বিনিয়োগ করবে না, সরকার কেবল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে। বিনিয়োগ আসবে বেসরকারি খাত থেকে।
ঢাকায় সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরের সব ছাদ যদি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হয়, এই দুই এলাকা থেকেই ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। এতে গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা যাবে।'
বিদ্যুৎ খাতে জাতীয়করণের ফলে ব্যবস্থাপনা ও আদায় ব্যবস্থায় যে স্থবিরতা এসেছে, তা দূর করতে বেসরকারি খাতের ভূমিকার ওপর জোর দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রমুখ।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য