দিনভর দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শনি করলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। রেকর্ড সেঞ্চুরি তুলে নিলেন মুশফিকুর রহিম। হাফসেঞ্চুরি করলেন লিটন দাস। দলীয় প্রচেষ্টায় বড় সংগ্রহ দাঁড় করল স্বাগতিকরা। দুই ইনিংস মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে লিডও দাঁড়ায় বেশ বড়ো। যা পার করতে হলে বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে পাকিস্তানকে। শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নামলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি পাকিস্তানের দুই ওপেনার।
আজ সোমবার (১৮ মে) তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো রান যোগ করতে পারেনি পাকিস্তান। পাকিস্তান দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল এখনো রানের খাতা খুলতে পারেনি। দুজনই তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ৬টি করে বল মোকাবিলা করেছেন।
এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ২৩২ রান। ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। এই ইনিংসে তোলে ৩৯০ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে লিড দাঁড়িয়েছে ৪৩৭ রানের।
এই রান তাড়া জিততে হলে পাকিস্তানকে বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে। প্রায় দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে ৪১৮ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৭৭ রান তাড়া করার কীর্তি আছে। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতেছিল তারা। বাংলাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ ৩৯৫ রান তাড়া করার রেকর্ড আছে। ২০২১ সালে চট্টগ্রামে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজান আর আব্দুল্লাহ। তাসকিন আহমেদের প্রথম ওভার খেলেছিলেন আজান। শরিফুলের দ্বিতীয় ওভার ব্যাটিং করেছিলেন আব্দুল্লাহ। তবে রানের দেখা পাননি কেউই।
এর আগে ৭ উইকেট হাতে রেখে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আগের দিন শেষ বলে ফিরেছিলেন মুমিনুল হক। তাই আজ দিনের শুরুতেই নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গ দিতে নামেন মুশফিকুর রহিম। শান্ত অবশ্য এদিন বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি। দিনের চতুর্থ ওভারেই ফিরে যান তিনি। খুররাম শাহজাদের করা ৩১তম ওভারের চতুর্থ বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ফেরার আগে ৪৬ বলে ১৫ রান করেছেন।
শান্ত ফিরলে উইকেটে আসেন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা লিটন দাস। দারুণ ব্যাটিংয়ে প্রথম সেশন ও দ্বিতীয় সেশনের অনেকটা সময় উইকেটে কাটিয়ে দেয় মুশফিক-লিটনের জুটি। শতক ছাড়ানো এই জুটি ভাঙে লিটন হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ফিরলে। ৯২ বলে ৬৯ রান করে ফেরেন লিটন।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৩৯ বলে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি। তাইজুল ইসলাম বেশ কিছুটা সময় সঙ্গ দেন মুশফিকুর রহিমকে। ৫১ বলে ২২ রান করেন তিনি। এরপর দ্রুতই ফিরে যান তাসকিন আহমেদ (১৩ বলে ৬) আর শরিফুল ইসলাম (১৫ বলে ১২)।
বাকিরা ফিরলেও সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন মুশফিক। মাঝে তুলে নেন রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে চা বিরতিতে গিয়েছিলেন মুশফিক। বিরতি থেকে ফিরে পূর্ণতা দিয়েছেন সেটিকে। মোহাম্মদ আব্বাসকে চার মেরে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন মুশফিক। এটি তার ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি। এতে ছাড়িয়ে গেছেন মুমিনুল হককে। টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি এখন মুশফিকের।
শেষ ব্যাটার হিসেবে মুশফিক ফিরলে থামে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। এর আগে ২৩৩ বল খেলে ১৩৭ রান করেন মুশফিক। ১২ চার আর এক ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস। বাংলাদেশ থামে ৩৯০ রানে।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য