বর্তমান মূল্যায়ন ১,৮০০ কোটি টাকা,২০৩০ সালের লক্ষ্য ১ বিলিয়ন ডলার
ঢাকা: বাংলাদেশের উদ্ভাবিত বৈশ্বিক সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘হ্যালো সুপারস্টারস’ (Hello Superstars)-এর বর্তমান মূল্যায়ন প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশে উদ্ভাবিত একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের এই মূল্যায়ন দেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে Abacus Worldwide, USA-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান Kazi Zahir Khan & Co, Chartered Accountants। ওমানের রাজপরিবারের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিজ হাইনেস মোহাম্মদ আল সাঈদ হ্যালো সুপারস্টারস-এর গালফ অঞ্চলের ব্যবসায় বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করায় সম্ভাব্য বিনিয়োগের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন করা হয়।
বাংলাদেশে জন্ম, লক্ষ্য বিশ্ববাজার
হ্যালো সুপারস্টারস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্ভাবক বাংলাদেশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ড. কামরুল আহসান। তাঁর ধারণা থেকেই এমন একটি প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষ, ভক্ত, উদীয়মান প্রতিভা ও সুপারস্টারদের মধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে।
প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়ার মতো শুধু পোস্ট, লাইক, কমেন্ট বা ফলো করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে হ্যালো সুপারস্টারসকে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সমন্বিত Celebrity–Fan Engagement এবং Talent Discovery Ecosystem হিসেবে।
এতে রয়েছে তারকাদের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ, পার্সোনালাইজড গ্রিটিংস, বিভিন্ন ধরনের ইন্টারঅ্যাকশন, বিনোদনমূলক কনটেন্ট, ই-কমার্স এবং বিশেষভাবে তৈরি ই-অডিশন ব্যবস্থা।
ই-অডিশন -এর মাধ্যমে একজন তরুণ বা তরুণী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল কিংবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পেতে পারেন। গান, অভিনয়, ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিভা অন্বেষণের প্রক্রিয়াকে প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও সহজলভ্য ও বৈশ্বিক করার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
‘প্রযুক্তি শুধু পশ্চিমা বিশ্ব বা চীনই তৈরি করবে—এ ধারণা বদলাতে চাই’
হ্যালো সুপারস্টারস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্ভাবক ড. কামরুল আহসান বলেন-,
“আমাদের এখনো অনেক পথ যেতে হবে। হ্যালো সুপারস্টারস তৈরির পেছনে আমাদের একটি বিশ্বাস কাজ করেছে—বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন শুধু সিলিকন ভ্যালি, ইউরোপ কিংবা চীন থেকেই আসতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বাংলাদেশও বিশ্বের জন্য প্রযুক্তি তৈরি করতে পারে।”
তিনি বলেন, ১,৮০০ কোটি টাকার বর্তমান মূল্যায়নকে তাঁরা চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে দেখছেন না; বরং এটি হ্যালো সুপারস্টারস-এর বৈশ্বিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
২০২৮ সালে ১0 কোটি ব্যবহারকারীর লক্ষ্য
হ্যালো সুপারস্টারস এখন আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, কনটেন্ট, তারকা ও প্রতিভা ব্যবস্থাপনা এবং ই-অডিশন ইকোসিস্টেম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে ১0 কোটি ব্যবহারকারীর একটি বৈশ্বিক কমিউনিটি তৈরি করা।
ড. কামরুল আহসান জানান, ১0 কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলক অর্জনের পর ২০২৮ সালে হ্যালো সুপারস্টারস বড় পরিসরে কৌশলগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ অংশীদার যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
বিশেষ করে গালফ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠীকে হ্যালো সুপারস্টারস-এর ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ওমানের রাজপরিবারের সদস্য ও ব্যবসায়ী মহলের বিনিয়োগ আগ্রহকে প্রতিষ্ঠানটি সেই আন্তর্জাতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে।
( হ্যালো সুপারস্টারস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্ভাবক বাংলাদেশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ড. কামরুল আহসান)
২০৩০ সালের স্বপ্ন—১ বিলিয়ন ডলার
হ্যালো সুপারস্টারস-এর সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যমানের একটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিতে পরিণত করা।
ড. কামরুল আহসান বলেন-, “আমাদের স্বপ্ন শুধু একটি সফল অ্যাপ তৈরি করা নয়। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া একটি প্রযুক্তি ও ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যা একদিন বিশ্বের স্বীকৃত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়াতে পারবে। ২০২৮ সালের মধ্যে আমরা ১0 কোটি ব্যবহারকারীর ভিত্তি তৈরি করতে চাই এবং ২০৩০ সালের মধ্যে হ্যালো সুপারস্টারসকে বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার স্বপ্ন দেখি।”
বাংলাদেশের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা: দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয় ও বিভিন্ন সেবা খাতের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পরিচিতি তৈরি হয়েছে। তবে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের সামনে বড় সম্ভাবনার একটি ক্ষেত্র হতে পারে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, মেধাস্বত্ব এবং বাংলাদেশে তৈরি ডিজিটাল পণ্যের আন্তর্জাতিক রপ্তানি। হ্যালো সুপারস্টারস সেই সম্ভাবনার একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে চায়।
বাংলাদেশে উদ্ভাবিত একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ১,৮০০ কোটি টাকার মূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং ভবিষ্যতে বিলিয়ন ডলার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য দেশের নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি বার্তা বহন করতে পারে।
ড. কামরুল আহসান বলেন,
“বাংলাদেশ শুধু বিশ্বের প্রযুক্তির ভোক্তা হয়ে থাকবে না—আমাদের প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও রপ্তানিকারকও হতে হবে। বাংলাদেশের একজন তরুণ যদি বিশ্বাস করতে শেখে যে তার একটি ধারণা একদিন বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে, তাহলেই হ্যালো সুপারস্টারস-এর সাফল্যের প্রকৃত অর্থ তৈরি হবে।”
১,৮০০ কোটি টাকার মূল্যায়ন থেকে ২০২৮ সালে ১0 কোটি ব্যবহারকারী এবং ২০৩০ সালে ১ বিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য—হ্যালো সুপারস্টারস এখন সেই স্বপ্ন নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চায়।
বাংলাদেশে উদ্ভাবন, বিশ্বের জন্য প্রযুক্তি।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য