লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে তৈরি করা ভোটের ছয়টি সিল জব্দের ঘটনায় জামায়াত নেতাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আটক একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট প্রদানের জন্য জামায়াত নেতার নির্দেশে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী সিলগুলো তৈরি করেন বলে মামলা দাবি করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার এসআই হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
আসামিরা হলেন- লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ও দক্ষিণ বাঞ্চানগর এলাকার মো. শাজাহানের ছেলে সৌরভ হোসেন শরীফ এবং সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে ও জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কের ‘মারইয়াম প্রিন্টার্সের’ স্বত্বাধিকারী সোহেল রানা।
বুধবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এসআই মনির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার বিকালে সোহেলের দোকান থেকে ১৬ ঘর বিশিষ্ট ছয়টি ভোটের সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। মামলার পর সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে আত্মগোপনে রয়েছেন জামায়াত নেতা।
এদিকে সিল জব্দের পরপর বিএনপি পক্ষ থেকে সোহেলকে জামায়াত কর্মী বরে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া সিল বানানোর অর্ডার দেওয়া জামায়াত নেতা শরীফের ছবিও ফেইসবুকে ছড়িয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে জেলা শহরের গোডাউন রোড এলাকায় বশিরভিলা হলরুমে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে করেন লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এ সময় তিনি সিল কাণ্ডে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন।
জাল ভোটসহ জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্র করার লক্ষে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন এ্যানি চৌধুরী।
পরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে একই আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম আটক সোহেল জামায়াতের কেউ নয় বলে দাবি করেছেন।
তবে জামায়াত নেতা শরীফের সংশ্লিষ্টার প্রশ্নে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার তদন্ত করে পুলিশ যাকে জড়িত মনে করবে তাকে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, “সিলগুলো জব্দের পরপরই শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।”
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জামায়াত নেতা শরীফ ৩০ জানুয়ারি সোহেলের কাছে পাঁচটি নির্বাচনি সিলের অর্ডার দেন। তিনি এ সংক্রান্ত একটি ভয়েস ম্যাসেজ সোহেলকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অসৎ উদ্দেশে প্রতারণার মাধ্যমে জাল ভোট প্রদানের জন্য অবৈধভাবে ভোটের সিল তৈরি করা হয়।
এসআই মনির হোসেন বলেন, সোহেলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এখনো রিমান্ড চাওয়া হয়নি। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। তবে আর কেউ জড়িত আছে কি-না ঘটনাটি তদন্ত চলছে।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য