তেল আবিবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কমান্ডারের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ও আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই হামলার পর থেকে খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখন ‘অনিশ্চয়তার মেঘে’ ঢাকা। সোমবার (২ মার্চ) প্যালেস্টাইন ক্রনিকলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দশম দফার এই প্রতিশোধমূলক অভিযানে ওই স্থানগুলোতে মারাত্মক আঘাত হানা হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই হামলার পর নেতানিয়াহুর পরিণতি এখন ‘অনিশ্চয়তার মেঘে’ ঢাকা, যদিও এ বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ইরান এখন পর্যন্ত দশ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর এই উত্তেজনা চরম রূপ নেয়। তেহরান তাদের এই প্রতিক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিশোধের ধারাবাহিক পর্যায় হিসেবে ইসরায়েলি ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। সাধারণত কৌশলগত বা সরকারি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে থাকে।
এই হামলার খবর এমন এক সময়ে এলো যখন পুরো অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়, ড্রোন অপারেশন এবং ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা ঘটছে। ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো ঘোষণা করেছে, তাদের ভাষায় এই ‘আগ্রাসন’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই দাবি নিশ্চিত বা অস্বীকার করে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য