যুক্তরাষ্ট্রে বৈশ্বিক সম্মেলন
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মিসেস মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান (২৪-২৫ মার্চ) ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’এ অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই দিনের সরকারি সফরে রয়েছেন। এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চল্লিশের অধিক ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশগ্রহণ করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণ ও সম্ভাবনা উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে সম্মেলনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন এবং উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের প্রতি যত্ন নেওয়া ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তন ও সমৃদ্ধি আনয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমান এবং তার প্রতিনিধিদল প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ডা. জোবাইদা রহমান অংশগ্রহণ করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ওয়ার্কিং সেশনে জুবাইদা রহমান শিশুদের উন্নয়ন বিষয়ে বৈশ্বিক অঙ্গীকারে বিশ্বনেতা ও অংশীদারদের একত্রিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ তাদের শিশুদের যত্ন, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের একত্রিত করে শিশুদের কল্যাণে বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের এই প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সদ্য নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যা সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করবে বলে তিনি মনে করেন।
একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি শিশুদের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। জোবাইদা রহমান বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া জরুরি, বিশেষ করে জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ‘সুরভি’ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তার শিক্ষা, যুব উন্নয়ন ও কমিউনিটি কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে বলেও জানান তিনি।
জোবাইদা রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষাব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও সম্পদের অভাব রয়েছে। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষকদের জন্য ট্যাবলেট ও কম্পিউটার সরবরাহ, ডিজিটাল কারিকুলাম প্রবর্তন এবং মাল্টিমিডিয়া-ভিত্তিক শ্রেণিকক্ষ চালুর মাধ্যমে শিক্ষাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি, বিশেষ করে এড-টেক, শহর ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির নৈতিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।
নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় মানবাধিকার অগ্রগতি এবং মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গার্মেন্টস শিল্পের ভিত্তি স্থাপনের কথা উল্লেখ করে জোবাইদা রহমান বলেন, এর মাধ্যমে লাখো নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা পরিবারকে শক্তিশালী করেছে এবং শিশুদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করেছে।
সম্মেলনে তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি, দক্ষ শিক্ষক গড়ে তোলা, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
বক্তব্যের শেষে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, জ্ঞান ভাগাভাগি, পারস্পরিক শিক্ষা এবং সীমান্ত পেরিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা শুধু আমাদের দেশ নয়, পুরো বিশ্বের শিশুদের ভবিষ্যতকে আরও শক্তিশালী করতে পারি।
ডা. জুবাইদা রহমানের সহকারী হিসেবে অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিনিয়র চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং নারী উদ্যোক্তা মিস মেহনাজ মান্নান অংশগ্রহণ করেন। এসময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, ডেপুটি চিফ অব মিশন ডি. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য