সর্বশেষ:
News Image চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি : মির্জা আব্বাস News Image ভারতে নিপাহ ভাইরাস আতঙ্ক, এশিয়াজুড়ে সতর্কতা News Image নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ফের ডিম নিক্ষেপ News Image একাত্তরের বন্ধু বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি মারা গেছেন News Image গ্রেটার নোয়াখালীর সাথে রয়েছে একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক: তারেক রহমান News Image মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ News Image দেশে ষড়যন্ত্র চলছে সকলে সজাগ থাকবেন: তারেক রহমান News Image শিরককারী-মুনাফেকদের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে হবে: তারেক রহমান News Image তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজর পড়বেন: তারেক রহমান News Image এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না News Image পেট্রোলবোমায় ৮ যাত্রী হত্যার আসামি আ.লীগ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা শুরু জামায়াত নেতা তাহেরের News Image সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে : সেনাপ্রধান News Image ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি: প্রেস সচিব News Image সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১,৯৮১ জন প্রার্থী News Image বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল ইরান News Image বিশ্ব গণমাধ্যমে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর News Image পুরনো নিয়মেই নতুন দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দিল অন্তর্বর্তী সরকার News Image শাহজালালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এনসিপির দুর্ব্যবহার, বর্জন সংবাদ সম্মেলন News Image স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিটিভি-বাংলাদেশ বেতার News Image সংবাদপত্রে ঈদুল আজহার ছুটি ৫ দিন
Babul K.

প্রধান প্রতিবেদক


প্রকাশিত :
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

মোট পঠিত:

রাজনীতি যখন সত্যকে পরিত্যাগ করে আর ষড়যন্ত্র, গুজব ও ইতিহাস-বিকৃতিকে আলিঙ্গন করে

Babul K.
রাজনীতি যখন সত্যকে পরিত্যাগ করে আর ষড়যন্ত্র, গুজব ও ইতিহাস-বিকৃতিকে আলিঙ্গন করে
ফিচার

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

গত দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষার পরে বাংলাদেশ যখন একটি জাতীয় নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, তখন দেশে চলমান রাজনীতির মান নির্বাচনের ফলাফলের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়; এটি সত্য, দায়িত্ববোধ ও জনগণের প্রতি সম্মানের পরীক্ষা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ধর্ম-ভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া নির্বাচনী ভাষ্য এক উদ্বেগজনক প্রবণতারই ইঙ্গিত দেয়। যেখানে নীতি, প্রমাণ বা উন্নয়নভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির বদলে প্রাধান্য পাচ্ছে উসকানি, ভ্রান্ত তথ্য এবং ইতিহাস-বিস্মৃতি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি অতীতের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার মানসিকতা ও আচরণের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ, যা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী এবং ঘৃণা, বিভাজন ও ভয়ভিত্তিক রাজনীতির সেই দুষ্টচক্রকে দীর্ঘায়িত করার ঝুঁকি তৈরি করে, যা বাংলাদেশের জনগণ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

এ ধরনের বক্তব্যের একটি উদাহরণ হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-কে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত, ‘মাদক ও পতিতাবৃত্তির কেন্দ্র’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া। এই দাবি শুধু মিথ্যাই নয়, নিকৃষ্ট রুচি আর চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনও বটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সূতিকাগার এবং মুক্তিযুদ্ধের বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি। এই ক্যাম্পাসের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাধিক প্রজন্ম তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, যাতে বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নিতে পারে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হালকা চালে কুৎসা রটানো মানে কোনো ভবন বা সংগঠনকে নয়— জাতির সম্মিলিত স্মৃতি ও আত্মপরিচয়কে আঘাত করা।

ছাত্র রাজনীতি নিয়ে মতভেদ, প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে বিতর্ক কিংবা পরিবর্তনের দাবি, এসবই গণতন্ত্রে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য। কিন্তু চরিত্রহনন কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রমাণহীন, চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী অভিযোগ যখন রাজনৈতিক বক্তব্যের জায়গা দখল করে নেয়, তখন তা একটি গভীর শূন্যতারই ইঙ্গিত দেয়। মানুষের প্রকৃত উদ্বেগ হলো কর্মসংস্থান, নিত্যপণ্যের দাম, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন, এসবের কোনো উত্তর সেখানে পাওয়া যায় না।

একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক বক্তব্যেও। এমন এক সময়ে, যখন তিনি ধারাবাহিকভাবে নীতিনির্ভর রাজনীতির কথা বলছেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা, খেলাধুলা এবং সামাজিক মর্যাদাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনছেন, তখন সমালোচনা হওয়া উচিত এসব নীতির বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। গণতন্ত্র পরিণত হয় নীতিনির্ভর বিতর্কের মাধ্যমে, বিকৃত তথ্য ও গুজব দিয়ে ব্যক্তিকে আক্রমণ করার মাধ্যমে নয়। তথ্য ও নীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ আজকের সচেতন ভোটারদের কাছে খুব কমই গ্রহণযোগ্য।

উন্নয়নভিত্তিক রাজনীতি ও ষড়যন্ত্রনির্ভর রাজনীতির এই পার্থক্য এখন স্পষ্ট। একদিকে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সংস্কার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন, স্বচ্ছ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকের সহায়তা এবং শিক্ষা ও দক্ষতার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করার আলোচনা। অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে ফিসফিসানি-নির্ভর প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং লেনদেনভিত্তিক প্রলোভনের ওপর নির্ভরতা। আজকের বাংলাদেশের ভোটাররা এতটাই সচেতন যে এসব কৌশল সহজে কাজ করে না।

ইতিহাসের ক্ষেত্রেও সততার প্রয়োজন আছে। ধর্মভিত্তিক ওই দলটি এই অঞ্চলের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল হলেও, দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেই নৈতিক বৈধতা অর্জিত হয় না। ইতিহাসের নথি পরিষ্কার ও সুপ্রতিষ্ঠিত। ১৯৪৭ সালে তারা পাকিস্তানের ভেতরে বাঙালির ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকারবিরোধী অবস্থান নেয়। ১৯৭১ সালে তারা পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতা করে এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে ইতিহাসের ভুল পাশে দাঁড়ায়, যখন লক্ষ লক্ষ বাঙালি স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করছিলেন। পরবর্তীকালে, আশির দশকের শেষভাগে, তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসন দীর্ঘায়িত করতে ভূমিকা রাখে, ফলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার বিলম্বিত হয়।

এগুলো কোনো দলীয় ব্যাখ্যা নয়; এগুলো ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন প্রজন্মের নাগরিকদের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠিত সত্য। ইতিহাস মুছে ফেলা বা নতুনভাবে সাজিয়ে কোনো গণতান্ত্রিক সমাজ এগোতে পারে না। ইতিহাসের সঙ্গে সত্যিকার সমঝোতা শুরু হয় সত্য স্বীকারের মাধ্যমে—অস্বীকারের মাধ্যমে নয়।

এ লেখার উদ্দেশ্য ধর্ম, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জনজীবনে নৈতিকতার ভূমিকার বিরুদ্ধে কথা বলা নয়। বাংলাদেশ একটি গভীরভাবে ধর্মপ্রাণ সমাজ, এবং আমাদের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুত্ববাদ নিশ্চিত করেছে। কিন্তু ধর্মীয় নৈতিকতা রাজনীতিকে উন্নত করবে, অবনমিত নয়। যখন ধর্মকে ভ্রান্ত তথ্য ঢাকার ঢাল হিসেবে বা জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ প্রমাণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন ধর্ম নিজেই তার নৈতিক শক্তি ও জনআস্থা হারায়।

অতএব, বাংলাদেশের সামনে যে নির্বাচন, তা কেবল দল বাছাইয়ের বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যকার একটি নির্বাচন। একটি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করে, নীতিনির্ভর বিতর্কে অংশ নেয় এবং ভোটারদের সত্য জানার অধিকারকে শ্রদ্ধা করে। অন্যটি গুজব, উসকানি ও নির্বাচিত স্মৃতিভ্রংশের ওপর নির্ভরশীল। একটি সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুযোগভিত্তিক বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থাকে; অন্যটি আমাদের রাজনৈতিক জীবনের পুরোনো ও অন্ধকার অধ্যায়ের কৌশলেই আটকে থাকে।

বাংলাদেশের নাগরিকরা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তিত হয়েছে। তারা এখন বেশি সচেতন, বিশ্বসংযুক্ত এবং ফাঁপা বক্তব্যে কম সহনশীল। তারা এমন রাজনীতি চায়, যা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলে; অতীতকে অস্ত্র বানিয়ে বা জাতি-গঠনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে হেয় করে যে রাজনীতি চলে, তা তারা আর গ্রহণ করতে চায় না।

এই নির্বাচনে, সত্য নিজেই একটি ব্যালট। আর ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যখন বাংলাদেশিদের সামনে ভয় ও আশার মধ্যে, গুজব ও যুক্তির মধ্যে স্পষ্ট নির্বাচন থাকে, তখন তারা মর্যাদা, গণতন্ত্র ও অগ্রগতির পক্ষেই রায় দেয়।

লেখক: চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক সিনিয়র হেলথ স্পেশালিস্ট


খবরটি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য
Logo