র্যাব নাম বদলে যাচ্ছে, নতুন পোশাকে আসছে বিশেষায়িত বাহিনী
অন্তর্বর্তী সরকার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “আজ থেকে র্যাব নতুন নামে পরিচিতি পাবে। তবে গেজেট জারি হলে নতুন নামের অধীনে কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিটের পোশাকও পরিবর্তিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই নতুন পোশাক তৈরি করা হয়েছে, পরবর্তী সপ্তাহে সদস্যদের নতুন ইউনিফর্মে দেখা যাবে।” তিনি আরও বলেন, গত দেড় বছরে র্যাবের কাজের মান পরিবর্তন এসেছে, অনেকের আশা ছিলো তাই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।র্যাবের ইতিহাস অনুসারে, প্রথমে এটি গঠিত হয়েছিল র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট) হিসেবে। পরে ২০০৪ সালে র্যাব নামে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে অংশগ্রহণ এবং পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রথম অপারেশনাল দায়িত্ব পায়। ২১ জুন থেকে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়। ২২ বছর পর এবার নাম পরিবর্তন করে এসআইএফ রাখা হচ্ছে।
বহু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা র্যাব বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সরকার সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব এবং এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময়ও জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। এর পরও সরকার ২২ বছর পর এ বাহিনীর নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে বাহিনীকে নতুন আকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, “সরকারের সিদ্ধান্ত জেনেছি। আদেশ পেলেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করব। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে, কোনো সমস্যা নেই।”
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য