নির্বাচনে অসংগতি ও প্রতিহিংসার প্রতিবাদ জানাতে আগামীকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ মিছিল করবে ১১ দলীয় জোট।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক। হাতিয়ার ঘটনার মতো উদাহরণ সামনে এসেছে। ২০১৮ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। আমার নিজের আসনেও তিনজন নারী আহত হয়েছেন। ৫৪টি জেলার রিপোর্ট আমরা জমা দিয়েছি।
তিনি আরও জানান, ‘১১ দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সহিংসতা বন্ধ না হলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব। তবে পার্লামেন্টে আমরা গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব। দেশ ও জাতির স্বার্থে কথা বলব। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। ১৬ই ফেব্রুয়ারি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৩টায় কর্মসূচি হবে।’
নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ, গণনা, ফলাফল ঘোষণা প্রক্রিয়া তুলে ধরে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘এ তিন ধাপের মধ্যে ভোটগ্রহণের বেলায় অতীতের তুলনায় এবার গুণগত পরিবর্তন দেখেছি কিছুটা, খুনাখুনি, সহিংসতা ছিল না। ভোটগ্রহণকালে অসুস্থ পরিবেশ ছিল নানা ধরনের। সূচনা সুন্দর হলেও সমাপ্তি সুন্দর হয় নি। জালভোট, কালোটাকার ছড়াছড়ি ও কোথাও হুমকি হামলা মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন উপাদান তৈরি হয়েছে।’
তিনি জানান, প্রার্থীর চিফ এজেন্টদের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ দায়ের করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখিনি। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী, যৌথবাহিনীর থাকলে হারানো চার শতাধিক পিস্তল এখনও অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। অবৈধ উদ্ধার তো আছেই। এগুলো নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে ভূমিকা রেখেছে।
নির্বাচনে ম্যানিপুলেশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কালো টাকা, অস্ত্র, হুমকির পাশাপাশি ইলেকশন ম্যানিপুলেশন করার কিছু কার্যক্রম আমরা লক্ষ্য করেছি। কোনো কোনো কেন্দ্রে অফিসাররা ব্যালটে সিল মারা, দলীয় কর্মীদেরও সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। আবার ভোটগ্রহণকালে পথিমধ্যে বাধা, ভীতিকর পরিবেশের কারণে ভোট কাস্ট কম হয়েছে। ১১ দলের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে ও ইসিতে বলার পরও সন্তোষজনক পদক্ষেপ পাইনি।
ফল পালটে দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, নির্বাচন শেষ হলো সাড়ে ৪ টায়। ৪ টা ২০ মিনিটের যে রেজাল্ট রেকর্ড আমরা পেয়েছি, পূর্ণাঙ্গ রেজাল্টের সময় একই কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে। তাহলে এখানে অতিরিক্ত ব্যালট ব্যবহার হয়েছে কিনা প্রশ্ন।
তিনি জানান, সব মিলিয়ে ইলেকশনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় এ ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে। দ্বিতীয়ত, গণনার ক্ষেত্রে কোথাও এজেন্টকে বের করা হয়েছে, জোর করা হয়েছে। গণনার সুষ্ঠু পরিবেশ কোথাও কোথাও ছিল না। ফলে ইলেকশন ভোটগণনার মধ্যে ত্রুটি থাকলে ফলাফলে প্রভাব পড়বে স্বাভাবিক। ফলাফল শিটেও দেখা গেছে ঘষামাজা, ওভাররাইটিং-অনেক জায়গায় অরিজিনাল এজেন্টের স্বাক্ষর নেওয়া হয় নি অনেক জায়গায়। ঢাকা-৬ আসনে রেজার্ট শিট পেন্সিলে, এজেন্টের নাম পরিবর্তন করা হয়, অন্য একটা স্বাক্ষর করা হয়। ত্রুটিপূর্ণ রেজাল্ট শিট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য