রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনি মহাসমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মরণফাঁদ ফারাক্কার বিপরীতে আমরা পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করব। এছাড়া আমরা কৃষি অঞ্চল হিসেবে খ্যাত রাজশাহীতে রবেন্দ্র প্রকল্পকে আরো গতিশীল করতে নতুন উদ্যোগ নেব। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বরেন্দ্র প্রকল্পের উন্নয়নে অনেক অবদান রেখেছেন। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি আলহাজ মামুনুর রশিদ মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে তিনি আরো বলেন, রাজশাহী শিক্ষা নগরী হিসাবে খ্যাত অথচ এখানে আইটি ফর্মের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। আইসিটি পার্ককে আরো গতিশীল করে শিক্ষিত তরুণ সমাজকে কর্মসংস্থানের কাজে লাগানো হবে। তিনি বলেন, আমাদের মা-বোনদের এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষিত করতে হবে। যাতে মেয়েরাও কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মায়ের হাতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে চাই, যাতে মানুষ ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাজ সারতে পারেন। বৃহস্পতিবার তিনি রাজশাহীর বিশাল জনসমুদ্রে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। দলের প্রধান হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে ২০০৪ সালে তিনি রাজশাহী এসেছিলেন।
বিমানবন্দরে নামার পর কড়া নিরাপত্তার ভেতর দিয়ে তারেক রহমানকে আমচত্বর-সিটিহাট-তেরোখাদিয়া-লক্ষ্মীপুর-সিঅ্যান্ডবি-সার্কিট হাউস হয়ে মাদ্রাসা ময়দানের সামনে দিয়ে শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজারে যান। সেখানে জোহরের নামাজের পর মাজার জিয়ারত শেষে ১টা ৫৫ মিনিটে তিনি মাদ্রাসা মাঠে জনসভাস্থলে সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হন। মঞ্চে উঠেই তিনি জনতার উদ্দেশে দুহাত নেড়ে অভিবাদন জানান। এ সময় জনতাও মুহুর্মুহু করতালি আর সেøাগান দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। এই নির্বাচনি সভায় আরো বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সদর আসনের প্রার্থী চেয়াম্যানের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-১ আসনের প্রার্থী চেয়াম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত শরিফ উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের প্রার্থী হারুনুর রশিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক শাজাহান মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম, নাটোর সদর আসনের প্রার্থী চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর বড়াইগ্রাম গুরুদাসপুরের প্রার্থী আব্দুল আজিজ, রাজশাহী-৬ আসনের প্রার্থী রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ, রাজশাহী-৩ আসনের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আসনের প্রার্থী ডি এম জিয়াউর রহমান, নাটোর-১ আসনের প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুল, রাজশাহী বিভাগীয় সাংঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবাইদুর রহমান চন্দন, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হোসেন প্রমুখ।
জনসভা দুপুর থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১০টার মধ্যেই রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের উপস্থিতিতে মাদ্রাসা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন, রংবেরংয়ের ক্যাপ-গেঞ্জি পরে ধানের শীষ হাতে নিয়ে সেøøাগানে সেøøাগানে মুখরিত করে তোলে মাদ্রাস ময়দান। মাদ্রাসা ময়দানে সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের ফায়ার ব্রিগেডের মোড়, সিপাইপাড়া, পদ্মার পাড়জুড়ে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। বিএনপি চেয়াম্যান শাহ মখদুম দরগা থেকে জিয়ারত শেষ করে ফেরার পথে সবার আগে বাংলাদেশ লেখা বুলেটপ্রুপ গাড়িতে করে সভাস্থলে আসার পথে জনতা রাস্তার দুধারে তাঁকে হাত নেড়ে এবং ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে অভিবাদন জানান।
রাজশাহীতে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যানার-ফেস্টুন, সেøাগান আর উচ্ছ্বাসে মুখর পুরো এলাকা। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হয়েছেন লাখো নেতা-কর্মী। নগরীর বিনোদপুর, তালাইমারি, আলুপট্টি, সাহেববাজার, সিএনবি এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। সভায় সদর আসনের এমপি প্রার্থী রাজশাহীর গণমানুষের নেতা মিজানুর রহমান মিনু তার বক্তৃত্বায় বিএনপি ক্ষমতায় এলে ফারাক্কার বিকল্প পদ্মা বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব করেন। পরে বিএনপি প্রধান তাঁর বক্তৃতায় দৃঢ়ভাবে ফারাক্কার বিকল্প পদ্মাবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। বিএনপির চেয়ারম্যান জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিএনপি কারো সাথে কোনো ঝামেলায় যেতে চায় না। যদি কেউ ঝামেলা করতে চায় তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ঝামেলা সমাধান করবে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে করে তারা ব্যাংক ঋণ, বীজ, সারসহ সহজেই কৃষি পণ্য কিনতে পারে। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি কীভাবে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে মেগা লুটপাট হয়েছে। মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে এলাকার মানুষের কোনো উন্নয়ন হয়নি। তিনি আরো বলেন, আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশে গণতন্ত্র সুরক্ষার জন্য। গণতন্ত্রের ভিত্তি যদি মজবুত হয় গণতন্ত্রও সুদৃঢ় হবে। দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ গায়েবি মামলায় জর্জরিত হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। আমরা কারো কোনো সমালোচনা করবো না। আজ দেশ গড়ার এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে তাই আপনারা ধানের শীষকে বিজয়ী করতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন। প্রার্থীদেরকে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আপনারা দেখে রাখবেন। আর প্রার্থীরা নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের দেখে রাখবেন। ১২ তারিখ নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ থেকে দেশের মানুষের জয়যাত্রা শুরু হবে বলে তিনি জানান। সব শেষে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ও তাদের সান্ত্বনা দিয়ে খোঁজ খবর নেন।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য