গত ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক বিকাশ ও প্রভাব দৃশ্যমান হয়েছে।এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগের কারণে জেন্ডার, ধর্মীয় সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। যা বৈষম্যবিরোধী চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন, মূল্যায়ন করে সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, কোনো কোনো মহলের অতিক্ষমতায়ন ও তার অপব্যবহার এবং চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। যা অসাম্প্রদায়িক সম-অধিকারভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের অন্তরায়।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘নতুন বাংলাদেশ’: কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী ১০০ দিনের ওপর টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থাটির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো শাহজাদা এম আকরাম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য সময়ে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা ও ৮টি জাতীয় দিবস পালন না করার সিদ্ধান্ত সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। জুলাই-আগস্টে গণহত্যায় জড়িতদের বিচার শুরু হয়েছে, তবে হতাহতদের সংখ্যা নিয়ে তারতম্য দেখা গেছে।
এছাড়া শীর্ষ সন্ত্রসীদের কারাগার থেকে মুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিচার বিভাগকে দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাবেক সরকারের সময় দায়ের করা মামলা ও রায় থেকে অব্যাহতি এবং দণ্ড মওকুফের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন বাংলাদেশে দুটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। তার একটি হলো রাষ্ট্র সংস্কার, আরেকটি হলো নতুন রাজনৈতিক সামাজিক সমঝোতা। এই লক্ষ্যগুলোকে সামনে রেখেই অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করছে। সরকারের কাজ কোথায় কী হচ্ছে, সেইগুলো চিহ্নিত করাও আমাদের দায়িত্ব।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য