চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোর ৩টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেলা ২টার দিকে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারের পর তিনি যশোর পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।’
পুলিশের দাবি, চট্টগ্রাম নগরী এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বেশিরভাগ চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা। একসময় ছোটো সাজ্জাদ বড়ো সাজ্জাদের হয়ে সব অপরাধ করে বেড়াতেন। ছোটো সাজ্জাদ গ্রেফতারের পর ডেভিড ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এ দু’জন একের পর এক অপরাধ করে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের খুঁজে পাচ্ছিল না। অবশেষে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হলো।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৫ লাখ টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরও আগে, ১১ জুলাই তারিখে ডেভিড ইমন পরিচয়ে ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ফোন করা হয়। ফোনে ডেভিড ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস করেন। আপনি আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারকে আমার নম্বরটা দেখাইয়েন। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করব। আপনারা করিয়েন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হয়েছিল, ওটা দেখেছেন তো; মুজিবকে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন। তাহলে বুঝবেন।’
এর দুইদিনের মধ্যেই ডিডিএন অফিসে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। হামলার সিসিটিভি ফুটেজও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এ ছাড়া, এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ ওঠে। এর আগে ২ জানুয়ারিতেও একই বাসায় গুলি করা হয়েছিল।
এদিকে, চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রবিবার (২৬ জুলাই) রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া এ দুই সহযোগী হলেন মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য