সর্বশেষ:
News Image চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি : মির্জা আব্বাস News Image ভারতে নিপাহ ভাইরাস আতঙ্ক, এশিয়াজুড়ে সতর্কতা News Image নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ফের ডিম নিক্ষেপ News Image একাত্তরের বন্ধু বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি মারা গেছেন News Image গ্রেটার নোয়াখালীর সাথে রয়েছে একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক: তারেক রহমান News Image মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ News Image দেশে ষড়যন্ত্র চলছে সকলে সজাগ থাকবেন: তারেক রহমান News Image শিরককারী-মুনাফেকদের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে হবে: তারেক রহমান News Image তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজর পড়বেন: তারেক রহমান News Image এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না News Image পেট্রোলবোমায় ৮ যাত্রী হত্যার আসামি আ.লীগ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা শুরু জামায়াত নেতা তাহেরের News Image সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে : সেনাপ্রধান News Image ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি: প্রেস সচিব News Image সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১,৯৮১ জন প্রার্থী News Image বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল ইরান News Image বিশ্ব গণমাধ্যমে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর News Image পুরনো নিয়মেই নতুন দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দিল অন্তর্বর্তী সরকার News Image শাহজালালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এনসিপির দুর্ব্যবহার, বর্জন সংবাদ সম্মেলন News Image স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিটিভি-বাংলাদেশ বেতার News Image সংবাদপত্রে ঈদুল আজহার ছুটি ৫ দিন
Babul K.

প্রধান প্রতিবেদক


প্রকাশিত :
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

মোট পঠিত:

চিকিৎসায় বাংলাদেশি গবেষকের সাফল্য

Babul K.
চিকিৎসায় বাংলাদেশি গবেষকের সাফল্য
স্বাস্থ্য

সম্প্রতি এমন আশাব্যঞ্জক তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, রক্তে একটি ‘সাধারণ মার্কার’ পরীক্ষার মাধ্যমে সেপসিসে আক্রান্ত রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সময়কাল প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব এবং রক্তের প্রোক্যালসিটোনিন পরীক্ষা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে গবেষণার জন্য ক্লিনিক্যাল তথ্য সংগ্রহের কাজটি হয়েছে। সেখানে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোক্যালসিটোনিনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা দেওয়া রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মধ্যম সময় ছিল চার দশমিক সাত দিন। প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতিতে এ সময় ছিল নয় দিন। যা প্রায় অর্ধেক।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়েলকাম ট্রাস্ট এবং কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের সহায়তায় বাংলাদেশে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। ৫৭ জনের এই গবেষক দলের প্রধান ছিলেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ও গবেষক ডা. ফরহাদ উদ্দিন হাসান চৌধুরী।

গবেষকেরা বলছেন, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার আশঙ্কা এবং চিকিৎসাব্যয়ও বাড়তে পারে।


গত ৩ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে ‘প্রোক্যালবান’ শিরোনামে এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই গবেষণা দেশের মানুষের কী কাজে আসবে, এসব বিষয়ে সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ডা. ফরহাদ উদ্দিন হাসান চৌধুরী।

ই-ক্লিনিক্যাল মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাপত্রটির বিষয়বস্তু নিয়ে ডা. ফরহাদ উদ্দিন বলেন, সহজভাবে বলতে গেলে, সেপসিস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের সময়কাল কমিয়ে আনতে একটি ‘সাধারণ রক্ত পরীক্ষা’ কতটা সহায়ক, তা নিয়েই এ গবেষণা। এই ‘সাধারণ পরীক্ষা’র মাধ্যমে রক্তে প্রোক্যালসিটোনিন নামের একটি ‘মার্কার’-এর মাত্রা দেখা হয়। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে যার মাত্রা বাড়ে; সংক্রমণ কমে আসছে কি না, তা-ও বোঝা যায়। তখন অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।


অ্যান্টিবায়োটিক যত বেশি সময়ের জন্য দেওয়া হয়, ততই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় বিভিন্ন জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক-রেজিস্ট্যান্ট (অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী) হয়ে ওঠার সুযোগ পায়। চিকিৎসার ব্যয়ও বাড়ে। এসব অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের মোট সময়কাল কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে এই গবেষণার শুরু।

সেপসিস কী, কতটা গুরুতর

তিনি বলেন, গুরুতর সংক্রমণ হলে দেহে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যে কারণে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা এমনভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা নিজ দেহের জন্যই ক্ষতিকর। এ কারণে দেহের কোনো অঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। এই অবস্থার নাম সেপসিস। সাধারণভাবে একে ‘রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া’ বলে।

সেপসিসে আক্রান্ত রোগীর শারীরিক নানা জটিলতার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও থাকে। সেপসিসে আক্রান্ত রোগীদের সুস্থতার জন্য আমাদের দেশে একটা লম্বা সময় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।

সংক্রামক রোগ নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করার কারণ জানতে চাইলে ডা. ফরহাদ উদ্দিন বলেন, সংক্রামক ব্যাধি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল আগে থেকেই। ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জনের পর আমি কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে লিভারপুল স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পড়তে যাই। সেখানে ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজে মাস্টার্স করি।


দেশে ফেরার পর ২০১৯ সালে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব এবং এরপর কোভিড অতিমারির সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজে সেবা দিই। কোভিড-১৯ চিকিৎসাবিষয়ক জাতীয় নির্দেশনার সহলেখকও ছিলাম। ক্লিনিক্যাল এসব কাজের মধ্যেই আমার উপলব্ধি হয়, দেশে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ একটা ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে।

অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিকে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাওয়া জীবাণু এ দেশের চিকিৎসাসেবার এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। দেশের বহু জায়গায় মানসম্মত ল্যাবরেটরি না থাকার কারণে চিকিৎসকেরা শুধু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

গবেষণার ফলাফল

এই চিকিৎসক জানান, ৫৩২ জন রোগীকে দৈবচয়নের মাধ্যমে দুটি দলে ভাগ করা হয়। একটি দলের চিকিৎসা হয়েছে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী। দেখা গেছে, তাদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মধ্যম সময় ছিল নয় দিন। অন্য দলটির রক্তে প্রোক্যালসিটোনিনের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়েছে। এই দলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মধ্যম সময় ছিল ৪ দশমিক ৭ দিন, যা প্রচলিত চিকিৎসার দলের প্রায় অর্ধেক। দুই দলের মধ্যে মৃত্যু বা আবার সংক্রমণের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

এক প্রশ্নে ডা. ফরহাদ জানান, গবেষণার ফলাফল থেকে তেমনটাই বলা যায়। তবে রক্তে প্রোক্যালসিটোনিন পরীক্ষার সুযোগ বাংলাদেশের অনেক হাসপাতালেই নেই। তা ছাড়া এই পরীক্ষার খরচও বেশি। আমাদের গবেষণায় আমরা নিজেদের উদ্যোগে প্রযুক্তিগত খরচটা কমানোর চেষ্টা করেছি। প্রতিবার প্রোক্যালসিটোনিন পরীক্ষার জন্য চার ডলারের মতো খরচ হয়েছে। তাই বলা যায়, চাইলে খরচ কমানো সম্ভব।

উন্নত দেশগুলোয় এর আগে এ ধরনের গবেষণা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় পরিষেবা রয়েছে। কিন্তু গবেষণাটি বাংলাদেশের একটি সীমিত সুবিধাসম্পন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে উপাত্ত নিয়ে করা হয়েছে। এ দেশে সংক্রামক ব্যাধি এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মাত্রা অনেক বেশি। তাই এই গবেষণা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

পুরো বিষয় যেভাবে সামলানো হয়

বাংলাদেশি চিকিৎসক ও গবেষক একটি গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের অর্থায়নে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিক্যাল মেডিসিনে পিএইচডি করার সুযোগ পাই। তখন এমন একটি বিষয়ে গবেষণা করতে চাইলাম, যাতে সহজ একটি পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা কম সময়েই সেপসিস রোগীর অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, নানা দিক বিবেচনা করে রক্তের প্রোক্যালসিটোনিনের মাত্রার সঙ্গে বিষয়টির সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করার কথা ভাবলাম। এরপর আমার পিএইচডির প্রধান সুপারভাইজার অধ্যাপক আরিয়ান ডনডর্পের সঙ্গে আলাপ করলাম। আমি প্রধান গবেষক হলেও সব মিলিয়ে ৫৭ জনের একটি দল নিয়ে কাজ করেছি। পুরো গবেষণাকাজের বিশাল তহবিলের জোগান দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ওয়েলকাম ট্রাস্ট।

দেশে-বিদেশে মোট তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে এথিক্যাল ক্লিয়ারেন্স (গবেষণার নৈতিক অনুমোদন) নিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যাকটেরিয়াজনিত সেপসিস বা সম্ভাব্য সেপসিস রোগীদের নিয়ে। ২০২৩-২৪ সালে এমন রোগী পাওয়া গিয়েছিল এক হাজার দুইজন। তবে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সব বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় রেখে শেষ পর্যন্ত ৫৩২ জনকে নিয়ে গবেষণাটি করা হয়। যেমন অন্তঃসত্ত্বা নারী, ১৬ বছরের কমবয়সী বা ৬৫ ঊর্ধ্ব রোগীদের এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বাংলাদেশের মানুষ কী পাবে

গবেষণাটি থেকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কী পাবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রোক্যালসিটোনিন পরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব, খরচও কমানো সম্ভব। সাধারণ মানুষ তখন এই গবেষণার সুফল পাবে। দীর্ঘ মেয়াদে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের জটিলতাগুলো এড়ানো গেলে দেশের বিরাট আর্থিক বোঝা লাঘব হবে।

ডা. ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশ যে কেবল আন্তর্জাতিক গবেষণার জন্য সাবজেক্টই (রোগী) দিতে পারে, তা নয়। বরং দেশের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করতে আন্তর্জাতিক পরিসরে ক্লিনিক্যাল অ্যাভিডেন্সও (প্রমাণ) উপস্থাপন করতে পারে। এ ধরনের স্বীকৃতির কারণে দেশের গবেষকদের আরও সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।


খবরটি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য
Logo