সর্বশেষ:
News Image চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি : মির্জা আব্বাস News Image ভারতে নিপাহ ভাইরাস আতঙ্ক, এশিয়াজুড়ে সতর্কতা News Image নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ফের ডিম নিক্ষেপ News Image একাত্তরের বন্ধু বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি মারা গেছেন News Image গ্রেটার নোয়াখালীর সাথে রয়েছে একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক: তারেক রহমান News Image মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ News Image দেশে ষড়যন্ত্র চলছে সকলে সজাগ থাকবেন: তারেক রহমান News Image শিরককারী-মুনাফেকদের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে হবে: তারেক রহমান News Image তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজর পড়বেন: তারেক রহমান News Image এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না News Image পেট্রোলবোমায় ৮ যাত্রী হত্যার আসামি আ.লীগ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা শুরু জামায়াত নেতা তাহেরের News Image সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে : সেনাপ্রধান News Image ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি: প্রেস সচিব News Image সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১,৯৮১ জন প্রার্থী News Image বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল ইরান News Image বিশ্ব গণমাধ্যমে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর News Image পুরনো নিয়মেই নতুন দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দিল অন্তর্বর্তী সরকার News Image শাহজালালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এনসিপির দুর্ব্যবহার, বর্জন সংবাদ সম্মেলন News Image স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিটিভি-বাংলাদেশ বেতার News Image সংবাদপত্রে ঈদুল আজহার ছুটি ৫ দিন
Babul K.

প্রধান প্রতিবেদক


প্রকাশিত :
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:০২ পিএম

মোট পঠিত: ২৫৭

আপাতত ছাপানো টাকা বাজারে ছাড়বে না বাংলাদেশ ব্যাংক

Babul K.
আপাতত ছাপানো টাকা বাজারে ছাড়বে না বাংলাদেশ ব্যাংক
অর্থনীতি
মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ

 

মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত ছাপানো টাকা বাজারে ছাড়বে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বরং আগে ছাড়া টাকার কিছু অংশ পর্যায়ক্রমে তুলে নেবে। এর অংশ হিসাবে ইতোমধ্যে বেশকিছু টাকা তুলে নিয়েছে। টাকা ছাড়িয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারকে ঋণের জোগানও বন্ধ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব উৎস বা ছাপানো টাকায় যেসব তহবিল গঠন করা হয়েছে, সেগুলোয় নতুন করে অর্থের জোগান বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব টাকায় আপাতত আর নতুন তহবিল গঠন করা হবে না।


মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির নিয়ন্ত্রণ করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে বাজারে টাকার প্রবাহ কমে গেছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতেই ঋণপ্রবাহ কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় তারল্যের জোগানও ব্যয়বহুল করা হয়েছে। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করছে কম। এর মাধ্যমে বাজারে টাকার প্রবাহে লাগাম পড়েছে। ফলে মানুষের চাহিদা কমবে। এতে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতিতে লাগাম পড়বে।

 

তবে অনেকেই মনে করেন, এককভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কারণ, ইউরোপ-আমেরিকার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বাংলাদেশের মিল নেই। এদেশে মূল্যস্ফীতি যতটুকু না টাকার প্রবাহ বাড়ার কারণে বৃদ্ধি পায়, এর চেয়ে বেশি বাড়ে ত্রুটিযুক্ত বাজারব্যবস্থার কারণে।


সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজারে সবচেয়ে বেশি টাকার জোগান আসে সরকারকে ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারকে যে ঋণ দেয়, এর প্রায় পুরোটাকেই বলা হয় ছাপানো টাকা। এসব টাকা বাজারে এলে মুদ্রার সরবরাহ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে চাহিদা বাড়ে। ফলে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায়।


চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারকে দেওয়া নতুন ঋণ বন্ধ করা হয়েছে। এর বিপরীতে আগের দেওয়া ঋণ সরকার পরিশোধ করছে। গত অর্থবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিয়েছিল প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিট কোনো ঋণ নেয়নি। তবে আগের ঋণ বাবদ প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি কমেছে।


বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে টাকার জোগান দিয়ে বিভিন্ন তহবিল গঠন করেছে। এসব তহবিল থেকে ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে বাজারে ছাপানো টাকা প্রবেশ করে। এতে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থায়নে চলমান তহবিলগুলোয় নতুন করে আর কোনো অর্থের জোগান দেবে না। ওইসব তহবিল আগের সীমার মধ্যে থেকে লেনদেন হবে। একই সঙ্গে চাহিদা থাকার পরও নতুন করে কোনো তহবিল গঠন করবে না।


সূত্র জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ১৯টি তহবিল রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি তহবিলের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তবে এগুলোর ঋণ এখনো বাজারে রয়েছে। এর মধ্যে করোনার সময় গঠন করা হয়েছে ১৪টি তহবিল। বাকি তহবিলগুলো বিভিন্ন সময়ে করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় শিল্প ও সেবা খাতের উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন জোগান দিতে দুই দফায় ৮০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দিয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে চলতি মূলধন দিতে দুই দফায় ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় দিয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা।


রপ্তানি খাতে কম সুদে ঋণ দিতে ৩০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। যার পুরোটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক দিয়েছে বৈদেশিক মুদ্রায়। প্রিশিপমেন্ট খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দিয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকার তহবিল। পেশাজীবীদের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে পুনঃঅর্থায়ন করতে দুই দফায় দেওয়া হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকা। স্বল্প-আয়ের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার তহবিল রয়েছে। এসএমই খাতের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম রয়েছে।


ক্ষুদ্রঋণ খাতে চলতি মূলধন দিতে দুটি তহবিলে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, গ্রিন অর্থায়ন তহবিল ৩ হাজার কোটি, পরিবেশবান্ধব শিল্পঋণ দিতে ৪০০ কোটি, ডিজিটাল খাতে ঋণ দিতে ৫০০ কোটি, ক্ষুদ্রশিল্পে মেয়াদি ঋণ দিতে ৩ হাজার কোটি; গম-ভুট্টার উৎপাদন বাড়াতে ১ হাজার কোটি; কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ২৫ হাজার কোটি; জাহাজ নির্মাণ খাতে ২ হাজার কোটি, আমদানির বিকল্প পণ্য উৎপাদনে ৫ হাজার কোটি এবং সিনেমা হল নির্মাণে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল রয়েছে। এসব ঋণের সুদহার কম বলে উদ্যোক্তাদের বেশ আগ্রহ রয়েছে।


এ ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে টাকার জোগান দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। ফলে বাজারে টাকার প্রবাহ কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারিতে টাকার প্রবাহ কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছিল প্রায় ৯ শতাংশ। গত অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। এতে টাকার প্রবাহ কমেছে।


টাকার প্রবাহ কমার কারণে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের সক্ষমতা কমেছে। ফলে ঋণপ্রবাহও কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছিল ১০ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছে ৫ শতাংশ। সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ গত অর্থবছরের ওই সময়ে বেড়েছিল প্রায় ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমেছে ৯ শতাংশ। ঋণপ্রবাহ কমায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমেছে। এতে উৎপাদন কমছে, কমবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির হার কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব সময়ই টাকা ছাপানোর কাজটি করে। সেগুলো ভল্টে জমা রাখা হয়। ভল্টে থাকা টাকাকে মৃত বা মূল্যহীন বলা হয়। বাজারে এলে তা জীবন পায় বা মূল্যবান হয়। চাহিদা অনুযায়ী এগুলোকে বাজারে ছাড়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় ছাপানো টাকা বাজারে আসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব সম্পদ বা আমানতকারীদের অর্থের মাধ্যমে। এতে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধিতে খুব বেশি ভূমিকা রাখে না। তবে সরকারকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থে বিশেষ তহবিল বা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে ঋণ দিলে সেগুলো হয় ছাপানো টাকা। এসব অর্থ বাজারে এসে মুদ্রা সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়ে মূল্যস্ফীতি ঘটায়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জিডিপির আকার বাড়ার সঙ্গে টাকার প্রবাহও বাড়িয়ে থাকে। যে কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে টাকার জোগান দেয়।


খবরটি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য
Logo