সর্বশেষ:
News Image মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ News Image দেশে ষড়যন্ত্র চলছে সকলে সজাগ থাকবেন: তারেক রহমান News Image শিরককারী-মুনাফেকদের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে হবে: তারেক রহমান News Image তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজর পড়বেন: তারেক রহমান News Image এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না News Image পেট্রোলবোমায় ৮ যাত্রী হত্যার আসামি আ.লীগ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা শুরু জামায়াত নেতা তাহেরের News Image সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে : সেনাপ্রধান News Image ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি: প্রেস সচিব News Image সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১,৯৮১ জন প্রার্থী News Image বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল ইরান News Image বিশ্ব গণমাধ্যমে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর News Image পুরনো নিয়মেই নতুন দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দিল অন্তর্বর্তী সরকার News Image শাহজালালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এনসিপির দুর্ব্যবহার, বর্জন সংবাদ সম্মেলন News Image স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিটিভি-বাংলাদেশ বেতার News Image সংবাদপত্রে ঈদুল আজহার ছুটি ৫ দিন News Image গণমাধ্যমে ঈদের ছুটি ৫ দিন ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের দাবি News Image কেবল সাংবাদিকরাই পাবেন অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড : প্রেস সচিব News Image দীপ্ত টিভির সংবাদ প্রচার বন্ধ, ৩ সাংবাদিক চাকরিচ্যুত News Image ‘যায়যায়দিন’ পত্রিকার ডিক্লেয়ারেশন ফিরে পেলেন শফিক রেহমান News Image বিচার নিয়ে এখনও অন্ধকারে সাগর-রুনির পরিবার
Babul K.

প্রধান প্রতিবেদক


প্রকাশিত :
২৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৫৮ এএম

মোট পঠিত: ১৬২

ভারতজুড়ে চলছে মুসলিম বিদ্বেষ, হুমকিতে কাশ্মীরের মুসলমানদের জীবন

Babul K.
ভারতজুড়ে চলছে মুসলিম বিদ্বেষ, হুমকিতে কাশ্মীরের মুসলমানদের জীবন
আন্তর্জাতিক

 ভারতশাসিত কাশ্মীরের পহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলার পরে যেসব অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হলো, গত কয়েকদিনে ভারতের নানা জায়গায় কাশ্মীরি মানুষদের হেনস্তা, মারধর এমনকি হত্যার হুমকি দেওয়ারও খবর এসেছে। 


এ ধরনের হেনস্তা ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে মূলত কাশ্মীরি ছাত্র-ছাত্রীদের যারা অন্য রাজ্যে পড়াশোনা করছেন। সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও কাশ্মীরিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছে।খবর বিবিসির।


হেনস্তার ভয়ে অনেক কাশ্মীরি ছাত্র-ছাত্রী গত কয়েকদিন ধরে ঘরবন্দি হয়ে রয়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছে কাশ্মীরি ছাত্রদের একটি সর্বভারতীয় সংগঠন। একই সঙ্গে মুসলমান-বিরোধী ঘৃণাও ছড়ানো হচ্ছে সামাজিক এবং গণমাধ্যমে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, পহেলগাম হামলার পর থেকে কাশ্মীরি এবং মুসলমান-বিদ্বেষ ছড়ানোর পাশাপাশিই প্রবলভাবে মৌখিক আক্রমণ করা হচ্ছে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ মানুষদেরও।


পহেলগামের হামলার জন্য ভারত সরকার পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছে, তাই ভারতের মানুষদের মধ্যেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নানা জায়গায় পাকিস্তানের পতাকাও পোড়ানো হচ্ছে।


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সামনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ২৬টি পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে দিয়েছেন। আবার ত্রিপুরার আগরতলাতেও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়েছে।


সামাজিক মাধ্যমগুলোতে নানা ভিডিও দেখা যাচ্ছে যেখানে রাস্তায় মানুষের চলাচলের পথে পাকিস্তানের পতাকা সাঁটিয়ে দেওয়া হচ্ছে যাতে তার ওপর দিয়েই মানুষ হাঁটতে পারেন।


সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখা গেছে, উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের একব্যক্তি যিনি নিজেকে হিন্দু নামধারী একটি সংগঠনের নেতা বলে দাবি করছেন এবং বলছেন যে, কাশ্মীরিদের দেরাদুনের যেখানেই দেখা যাবে, অবশ্যই তাদের ব্যবস্থা হবে। 


কয়েকজন কাশ্মীরি ছাত্রকে শহর ছাড়তে হুমকিও দিচ্ছেন তিনি, এই ভিডিও-ও সামনে এসেছে। জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের প্রতিটা ঘটনারই খবর রাখছে বলে জানিয়েছে।


সংগঠনটির সর্বভারতীয় আহ্বায়ক নাসির খুয়েমি বলছিলেন, দেরাদুনের ঘটনায় যাদের হুমকি দিতে দেখা গিয়েছিল, তাদের আটক করা হয়েছে বলে সেখানকার পুলিশ আমাকে আশ্বস্ত করেছে। তবুও ঘটনা তো ঘটেই চলেছে। এই আটক হওয়ার ঘটনাটা জানতে পারলে ছোটখাটো ওই সব সংগঠনগুলো সচেতন হবে কি না জানি না।


তার কথায়, সারা দেশ থেকেই কাশ্মীরি ছাত্রছাত্রীরা হেনস্তা-হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানাচ্ছেন। তারা একটি বিশেষ হেল্পলাইনও খুলেছেন।


নাসির খুয়েমি বলছেন, দেরাদুন, চণ্ডীগড়, প্রয়াগরাজের মতো বড় শহরসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত আটটি গুরুতর মারধর, হুমকি ও হেনস্তার ঘটনা হয়েছে। 


এছাড়াও অসংখ্য ঘটনার খবর আসছে সারা দেশ থেকে যেখানে আমাদের রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা হেনস্তা বা হুমকির শিকার হওয়ার কথা জানাচ্ছেন।


তার কথায়, পহেলগামের হামলার পরে এমনিতেই পরিস্থিতি তেতে আছে। তার ওপরে কাশ্মীরি ছাত্রদের হয়রানির এসব ঘটনা প্রকাশ করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সরকারের একটা আশঙ্কা আছে। 


তাই একটা প্রশাসনিক চাপ আছে ঘটনাগুলো প্রকাশ না করার। আমরা চেষ্টা করছি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তাদের মাধ্যমে যাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।


নাসির খুয়েমি বলছেন, আমি নিজে বেশ কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য পুলিশ মহানির্দেশকের সঙ্গে কথা বলেছি। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। আর আমাদের ছাত্রছাত্রীদের বলেছি তারা যেন বেশি মুখ না খোলে, কোনো রাজনৈতিক কথাবার্তা বাইরে না বলে। বেশিরভাগ সময় ঘরে থাকতেও পরামর্শ দিয়েছি।


পহেলগামের হামলায় যে ২৬ জন নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে একজন কাশ্মীরিও ছিলেন যিনি মুসলমান এবং পর্যটকদের ঘোড়ায় করে ঘুরিয়ে রুটি-রুজি চালাতেন। তিনি হামলাকারীদের একজনের বন্দুক কেড়ে নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন।


আবার হামলার পরে আহতদের পিঠে চাপিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বা কাশ্মীরি গাড়িচালকরা পর্যটকদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এরকম বর্ণনাও প্রকাশিত হয়েছে।


ঘটনার দিনই রাতে পহেলগামের ট্যাক্সিচালকরা মোমবাতি মিছিল বের করেছিলেন, পর দিন ওই হামলার প্রতিবাদে পুরো জম্মু-কাশ্মীর জুড়েই হরতাল পালিত হয়েছে। সেখানে অনেক প্রতিবাদ মিছিলও হয়েছে।


তবুও যেভাবে কাশ্মীরিদের লক্ষ্য করে নানা রাজ্যে হেনস্তা বা হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা দেখে কাশ্মীরি ছাত্রনেতা নাসির খুয়েমি বলছিলেন, নিরীহ কাশ্মীরি ছাত্রছাত্রীদের হেনস্তা হতে হবে, মার খেতে হবে, কাশ্মীরের পর্যটন ভেঙে পড়বে, ভারতের সমাজ ভাগ হয়ে যাবে – আসলে এটাই তো চেয়েছিল পড়শি দেশ।


আবার পহেলগামের ঘটনার দুদিন পরেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গুলি বিনিময়ে নিহত হন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এক সেনা সদস্য। তিনি মুসলমান, নাম ঝন্টু আলি শেখ।


কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শুক্রবার কাশ্মীরে গিয়েছিলেন। আহতদের সঙ্গে দেখা করার পরে তিনিও কাশ্মীরি ছাত্রছাত্রীদের হেনস্তার প্রসঙ্গটি তুলেছেন।


তার কথায়, এটা খুবই দুঃখজনক যে কিছু লোক আমাদের কাশ্মীরি ভাই-বোনদের আক্রমণ করছেন। এই জঘন্য ঘটনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে একজোট হয়ে থাকাটা খুবই জরুরি। সমাজকে বিভক্ত করার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রত্যেক ভারতীয়র একজোট হওয়া জরুরি যাতে সন্ত্রাসবাদীরা যা করতে চাইছে, সেটাকে পরাজিত করা যায়।


পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দুদিন আগে একটা পোস্ট করেছিলেন যে তিনি ব্যক্তিগত সূত্রে জানতে পেরেছেন কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় দুজন কাশ্মীরি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে উঠেছেন। ফ্ল্যাটের ঠিকানাও দিয়ে দেওয়া হয়। তারা বাড়ির ছাদে উন্নতমানের কোনো যোগাযোগের যন্ত্র বসিয়েছেন– এই তথ্য উল্লেখ করে রাজ্য পুলিশকে ট্যাগ করে তদন্ত করারও অনুরোধ করেন তিনি।


স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে এবং পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশ সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে জানায় যে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া ওই দুই ব্যক্তির কেউই কাশ্মীরি নন। একজন হিন্দু ও একজন মুসলমান এবং তারা মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা।


ওই দুই ব্যক্তিই প্রকৌশলী এবং পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসার জন্য এসেছেন। ব্যবসার জন্য জমিও নিয়েছেন তারা, এটাও জানায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। বাড়ির ছাদে যে যন্ত্র বসানোর কথা বলেছিলেন, সেটা আসলে হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ডের অ্যান্টেনা।


পুলিশ এটাও মনে করিয়ে দিয়েছে যে সাধারণ মানুষের নজরদারি দরকার ঠিকই, কিন্তু সেটা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার আগে যেন স্থানীয় থানায় জানানো হয়।


পহেলগামের হামলার পরে বেশ কিছু ভুয়া পোস্ট এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ভারতে ভুয়া খবর খুঁজে বের করার সাইট অল্ট নিউজ অন্তত তিনটি এ ধরনের ভুয়া খবর খুঁজে বের করেছে।


পহেলগামের হামলার বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসার পর জানা যায় যে হত্যাকারীরা পর্যটকদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়েছিল। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু। এই বর্ণনার পরেই মুসলমান-বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি।


খবরটি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য
Logo