সর্বশেষ:
News Image মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ News Image দেশে ষড়যন্ত্র চলছে সকলে সজাগ থাকবেন: তারেক রহমান News Image শিরককারী-মুনাফেকদের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে হবে: তারেক রহমান News Image তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজর পড়বেন: তারেক রহমান News Image এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না News Image পেট্রোলবোমায় ৮ যাত্রী হত্যার আসামি আ.লীগ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা শুরু জামায়াত নেতা তাহেরের News Image সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে : সেনাপ্রধান News Image ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি: প্রেস সচিব News Image সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১,৯৮১ জন প্রার্থী News Image বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল ইরান News Image বিশ্ব গণমাধ্যমে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর News Image পুরনো নিয়মেই নতুন দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দিল অন্তর্বর্তী সরকার News Image শাহজালালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এনসিপির দুর্ব্যবহার, বর্জন সংবাদ সম্মেলন News Image স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিটিভি-বাংলাদেশ বেতার News Image সংবাদপত্রে ঈদুল আজহার ছুটি ৫ দিন News Image গণমাধ্যমে ঈদের ছুটি ৫ দিন ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের দাবি News Image কেবল সাংবাদিকরাই পাবেন অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড : প্রেস সচিব News Image দীপ্ত টিভির সংবাদ প্রচার বন্ধ, ৩ সাংবাদিক চাকরিচ্যুত News Image ‘যায়যায়দিন’ পত্রিকার ডিক্লেয়ারেশন ফিরে পেলেন শফিক রেহমান News Image বিচার নিয়ে এখনও অন্ধকারে সাগর-রুনির পরিবার
Babul K.

প্রধান প্রতিবেদক


প্রকাশিত :
০২ জুলাই ২০২৫, ০২:৪২ পিএম

মোট পঠিত: ১৩৩

সব দল চায় তত্ত্বাবধায়ক, গঠন পদ্ধতিতে ভিন্নমত

Babul K.
সব দল চায় তত্ত্বাবধায়ক, গঠন পদ্ধতিতে ভিন্নমত
জাতীয়

 নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ সংলাপে অংশ নেওয়া প্রায় সব রাজনৈতিক দল। তবে কারা থাকবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে—সে বিষয়ে রয়েছে মতপার্থক্য।

বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অষ্টম দিনের সংলাপে দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় ঐকমত্যে পৌঁছায়। পাশাপাশি, আসনের সীমানা নির্ধারণে একটি সাংবিধানিক কমিটি গঠনেও একমত হয় দলগুলো।তবে মূল বিতর্ক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন—তা নিয়ে।


বিএনপি চায়, ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মতো সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হোন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। যদিও তারা বিচার বিভাগকে এ প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার জন্য বিকল্প প্রস্তাব নিয়েও আলোচনায় রাজি। তাদের নিজস্ব খসড়াও রয়েছে, তবে এখনই প্রকাশ করেনি।


জামায়াতে ইসলামীর মতামত বিএনপির মতো হলেও তারা ২০০৬ সালের অভিজ্ঞতা থেকে রাষ্ট্রপতির নেতৃত্ব চায় না। দলটি বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়।

 এনসিপি একধাপ এগিয়ে একটি রূপরেখা দিয়েছে। তাদের প্রস্তাব—সংসদের নিম্নকক্ষে সরকার ও বিরোধী দল মিলে ১১ সদস্যের কমিটি গঠিত হবে। দলগুলো যে নাম দেবে, তার মধ্য থেকে ৮ সদস্যের সমর্থন পেলেই কেউ হবেন প্রধান উপদেষ্টা। তা সম্ভব না হলে, প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ র‍্যাঙ্কড চয়েজ পদ্ধতিতে উপদেষ্টা নির্বাচন করবে।


সংলাপে বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ নিয়ে সবাই একমত হয়েছেন—৯০ দিন। শুধুমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।


সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের বাইরে একটি বিশেষ সাংবিধানিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব আসে বিএনপির পক্ষ থেকে। তাতে জামায়াত, এনসিপিসহ অন্যান্য দল সম্মত হয়।

আলী রীয়াজ জানান, প্রতি দশ বছর পর আদমশুমারির ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণের জন্য সংবিধানের ১১৯(১)(ঘ) অনুচ্ছেদের সঙ্গে নতুন আইন যুক্ত করা হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে সরকার ও ইসিকে জানানো হবে।


সংলাপে একটি বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে—ইসিকে সহায়তায় দক্ষ, নিরপেক্ষ ও বিশেষায়িত কমিটি গঠন করা হবে।


তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদি কাঠামো ও বাতিলের পটভূমি উঠে আসে আলোচনা জুড়ে।


সাবেক প্রধান বিচারপতির বাইরে গ্রহণযোগ্য কাউকে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নিয়োগের পথ খোলা রাখা যেতে পারে। তবে রাষ্ট্রপতি যেন প্রধান উপদেষ্টা না হন, এ বিষয়ে তারা অনড়

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের

১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকার সংবিধানে ৫৮(ক) অনুচ্ছেদ যোগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভিত্তি তৈরি করেছিল। ২০১০ সালে আপিল বিভাগ এই ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, যদিও পরপর দুই নির্বাচন পর্যন্ত তা চালু রাখার পরামর্শ দেয়। পরে, ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল করে।


এই বাতিল সিদ্ধান্ত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট খারিজ করে দিলে বিএনপি ও জামায়াত আপিল বিভাগে রিভিউ করে।


সালাহউদ্দিন আহমেদ আশাবাদ জানিয়ে বলেন, রায় তাদের পক্ষে আসবে। তিনি মনে করেন, প্রধান উপদেষ্টার জন্য রাষ্ট্রপতির বিকল্প উল্লেখ করাও হয়েছে কেবলমাত্র পরিস্থিতি সামাল দিতে।


জামায়াতের পক্ষ থেকে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের জানান, সাবেক প্রধান বিচারপতির বাইরে গ্রহণযোগ্য কাউকে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নিয়োগের পথ খোলা রাখা যেতে পারে। তবে রাষ্ট্রপতি যেন প্রধান উপদেষ্টা না হন, এ বিষয়ে তারা অনড়।


তত্ত্বাবধায়ক সরকার দীর্ঘ মেয়াদে স্থানীয় নির্বাচনও পরিচালনা করুক—এ দাবি জামায়াতের। তবে বিএনপির আপত্তি রয়েছে। তাদের মতে, তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত গড়াবে।


সালাহউদ্দিন বলেন, যদি সবার গ্রহণযোগ্যতায় কোনো পথ মেলে যেখানে বিচার বিভাগ না থাকে, তবে আলোচনা হতে পারে।


এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন জানান, অতীতে বিচারপতিকে উপদেষ্টা করায় বিচার বিভাগে রাজনৈতিক রং লেগেছে। তাই তারা চাইছেন, সর্বদলীয় কমিটি বা উচ্চকক্ষের ভোটে নিরপেক্ষ একজন নির্বাচিত হোন।


সংলাপে বিএনপির অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়। বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী বলা হচ্ছে—এ অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেন সালাহউদ্দিন।


তিনি বলেন, বিএনপিই সংস্কার আলোচনায় সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে। ৯০ শতাংশ প্রস্তাবে তারা একমত। তিনি আরও জানান, স্বৈরাচার ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার প্রস্তাবও বিএনপির পক্ষ থেকেই এসেছে।


সংলাপটি সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং ড. আইয়ুব মিয়া।


খবরটি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য
Logo