সর্বশেষ:
News Image চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি : মির্জা আব্বাস News Image ভারতে নিপাহ ভাইরাস আতঙ্ক, এশিয়াজুড়ে সতর্কতা News Image নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ফের ডিম নিক্ষেপ News Image একাত্তরের বন্ধু বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি মারা গেছেন News Image গ্রেটার নোয়াখালীর সাথে রয়েছে একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক: তারেক রহমান News Image মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ News Image দেশে ষড়যন্ত্র চলছে সকলে সজাগ থাকবেন: তারেক রহমান News Image শিরককারী-মুনাফেকদের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে হবে: তারেক রহমান News Image তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজর পড়বেন: তারেক রহমান News Image এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না News Image পেট্রোলবোমায় ৮ যাত্রী হত্যার আসামি আ.লীগ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা শুরু জামায়াত নেতা তাহেরের News Image সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে : সেনাপ্রধান News Image ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি: প্রেস সচিব News Image সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১,৯৮১ জন প্রার্থী News Image বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল ইরান News Image বিশ্ব গণমাধ্যমে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর News Image পুরনো নিয়মেই নতুন দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দিল অন্তর্বর্তী সরকার News Image শাহজালালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এনসিপির দুর্ব্যবহার, বর্জন সংবাদ সম্মেলন News Image স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিটিভি-বাংলাদেশ বেতার News Image সংবাদপত্রে ঈদুল আজহার ছুটি ৫ দিন
Babul K.

প্রধান প্রতিবেদক


প্রকাশিত :
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

মোট পঠিত: ২৩

প্রশাসনিক অচলাবস্থায় এমআরএ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এনজিও খাত

Babul K.
প্রশাসনিক অচলাবস্থায় এমআরএ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এনজিও খাত
ব্যবসা বানিজ্য

দেশের ক্ষুদ্রঋণ খাত নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ) বর্তমানে অনিস্পন্ন নথির জট, সিদ্ধান্তহীনতা এবং প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট এনজিও ও খাতসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। এতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যাংক অর্থায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

এ স্থবিরতা বা প্রশাসনিক ধীরগতির মূলে রয়েছে শীর্ষ পর্যায়ের  পরিচালকদের অদক্ষতা এবং অনভিজ্ঞতাই মূল কারণ হিসাবে দেখছেন এমআরএ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। তথ্যমতে, গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে পটপরিবর্তনের পর মাইক্রোক্রেডিট রেগুলটরী অথরিটির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবীর হয়ে পড়েছে।  মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি আইনের ১০ ধারায় প্রধান নির্বাহী তথা এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান-এর যোগ্যতা বিধৃত থাকলেও উক্ত যোগ্যতা পরিপালন না করেই শীর্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে- বর্তমান ইভিসি বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করেই কখনও প্রতিষ্ঠানের সনদ বাতিল করছেন আবার কখনও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাগত অনেক বিষয়ে অথরিটি আইন বিধি বর্হিভূত হস্তক্ষেপ করে তাদের অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক করছে। অথচ মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি বিধিমালা ২০১০-এর বিধি ৬(১)-এ সনদ বাতিলের ৬টি কারণ এবং বি ৩(৩) অনুযায়ী সনদ ফরমে সনদের ৯টি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয় ভদ্রতার কারণে অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দাখিল করলেও কোনরূপ জবাব না দিয়ে মাসের পর মাস নথি ঝুলিয়ে রাখছেন। এমনকি অথরিটির যাচিত তথ্য বা প্রশ্নোত্তর প্রদান করা হলেও কোন নিষ্পত্তি পাওয়া যাচ্ছে না। 

অন্যদিকে এমআরএ আইনের বাস্তবায়নের নামে আইনবিধি বহির্ভূত বিষয়ের অবতারণা করে  অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। উদাহরণস্বরূপ এমআরএ সার্কুলার নং- ৩৩ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ক্রমপুঞ্জিভূত উদ্বৃত্তের সর্বোচ্চ ৩৫% পর্যন্ত স্থায়ী সম্পদ অর্জনের শর্ত নির্ধারণ পর ৪৭ নং সার্কুলারের মাধ্যমে জমি, ভবন  ও গাড়ীর ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন গ্রহণ করার নিয়ম করা হয়েছে। এ গাড়ীর জন্য অনুমোদন নিতে হলে কী গাড়ী কত দামে কেনা হবে তার কয়েকটি কোটেশন অথরিটিতে দাখিল করতে হবে যা সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠান গুলোর নিজস্ব বিষয়।

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম তহবিলের উৎস হলো ব্যাংক ঋণ। অভিযোগ রয়েছে এমআরএ কতৃক সময়মতো প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে বিলম্ব হওয়ায় এবং কখনো কখনো কোন তথ্য না দিয়ে মনগড়াভাবে ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করায় অথরিটির এ ধরনের কার্যকলাপে ব্যাংকসমূহ ঋণ প্রদানে উৎসাহ হারাচ্ছে। যার ফলে তহবিলের ব্যাংক ঋণের উৎস ২২% থেকে ১৪% এ নেমেছে এবং প্রতিষ্ঠানসমূহ ও নিম্নআয়ের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যার বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়েছে 

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ও  প্রবৃদ্ধিতে। শুধু ঋণ কার্যক্রম নয়, এনজিওগুলোর সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও বাজেট অনুমোদনও আটকে রয়েছে বর্তমান সময়ে।

সরকার যখন ৭টি সিডিউল ব্যাংকের কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য বিশ হাজার কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে সেখানে এমআরএ সহযোগিতাতে অনেক এনজিওর লাইসেন্স বাতিল করছে। ছোট খাট এনজিওদের সবারই লাইসেন্স বাতিল করে শুধুমাত্র হাতে গোনা কয়েকটি বড় এনজিওকে রাখতে চাচ্ছে। সামান্য ভুলের অজুহাতে সংশোধনের সময় না দিয়ে লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে। একচ্ছত্র আরও অধিক ক্ষমতা ব্যবহারের জন্য কঠোর ও নিবর্তনমূলক আইন তৈরীর চেষ্টা করছে। বর্তমান ইভিসি মনে করছেন যে, সব এনজিও দুর্নিতিগ্রস্থ তাই তাদের কঠিন নিয়মকানুন দিয়ে নিয়ন্ত্রন করতে হবে।

পরিচলকদের প্রশাসন পরিচালনা করার মত তেমন কোন অভিজ্ঞতা না থাকার ফলে কতিপয় জুনিয়র কর্মকর্তার উপর নির্ভরশীল হয়ে কাজ করার কারণে এবং সিদ্ধান্ত নিতে ঝুঁকি না নেওয়ার প্রবনতা থেকে এনজিওর অসংখ্য সমস্যা সমাধানের জন্য মাসের পর মাস ঝুলে আছে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের তৃণমূল সবিধা ভোগীদের মাঝে।

এ বিষয়ে জানতে দেশের প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালকের সাথে কথা হলে তারা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, বর্তমান ইভিসি তার পেশাগত জায়গাতে দক্ষ হলেও এমআরএতে দায়িত্ব গ্রহণের পর অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এবং তার এ অনভিজ্ঞতা বা অদক্ষতা যাই বলি না কেন এর প্রভাব পড়েছে এনজিও সেক্টর গুলোতে। 

তাদের মতে, বর্তমান ইভিসির প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে তিনি তার অধিনস্ত কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরশীল। আর এ সুযোগে তার কাধে বন্দুক রেখে এনজিও সেক্টরের ওপর এক রকম সেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নিজেদের ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রর্দশনে ব্যস্ত রয়েছে কতিপয় কর্মকর্তা। এসকল কর্মকর্তার অপ্রয়োজনীয় কার্যকলাপে নিজেদের সংপৃক্ত করতে গিয়ে এনজিওর স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে এক দিনে সমাধান যোগ্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় মাসের পর মাস ফেলে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি এনজিও প্রধানদের কাছে নিজের গুরুত্ব তুলে ধরতেও সহজ কাজ গুলোকে কঠিন করে তুলছেন। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশের ক্ষুদ্রঋণ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুলো। তাদের মতে, দ্রুত একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ এবং দায়িত্বশীল কাউকে ইভিসি হিসাবে নিয়োগ না করা হলে আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষুদ্রঋণ খাত দেশের তৃণমূল অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। তাই এনজিও গুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হলে এর প্রভাব সরাসরি দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে পড়বে। তাদের মতে এমআরএ’র বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে এ খাত দীর্ঘমেয়াদে বড় সংকট তৈরি করবে।



খবরটি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য
Logo