সর্বশেষ:
News Image মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ News Image দেশে ষড়যন্ত্র চলছে সকলে সজাগ থাকবেন: তারেক রহমান News Image শিরককারী-মুনাফেকদের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে হবে: তারেক রহমান News Image তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজর পড়বেন: তারেক রহমান News Image এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না News Image পেট্রোলবোমায় ৮ যাত্রী হত্যার আসামি আ.লীগ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা শুরু জামায়াত নেতা তাহেরের News Image সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে : সেনাপ্রধান News Image ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি: প্রেস সচিব News Image সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১,৯৮১ জন প্রার্থী News Image বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল ইরান News Image বিশ্ব গণমাধ্যমে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর News Image পুরনো নিয়মেই নতুন দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দিল অন্তর্বর্তী সরকার News Image শাহজালালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এনসিপির দুর্ব্যবহার, বর্জন সংবাদ সম্মেলন News Image স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিটিভি-বাংলাদেশ বেতার News Image সংবাদপত্রে ঈদুল আজহার ছুটি ৫ দিন News Image গণমাধ্যমে ঈদের ছুটি ৫ দিন ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের দাবি News Image কেবল সাংবাদিকরাই পাবেন অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড : প্রেস সচিব News Image দীপ্ত টিভির সংবাদ প্রচার বন্ধ, ৩ সাংবাদিক চাকরিচ্যুত News Image ‘যায়যায়দিন’ পত্রিকার ডিক্লেয়ারেশন ফিরে পেলেন শফিক রেহমান News Image বিচার নিয়ে এখনও অন্ধকারে সাগর-রুনির পরিবার
Babul K.

প্রধান প্রতিবেদক


প্রকাশিত :
২০ মে ২০২৪, ০৮:১১ এএম

মোট পঠিত: ২৬৩

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে কঠোর আন্দোলন

Babul K.
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে কঠোর আন্দোলন
মিডিয়া

 বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গভর্নর কার স্বার্থ রক্ষা করছেন, সে প্রশ্ন তুলেছে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।


গতকাল সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন সংগঠনের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইআরএফ সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার কথা বলছে। অথচ ৫৩ বছরের প্রথা ভেঙে হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, এটা সরকারের অবস্থানের বিপরীত। গত ২১ মার্চ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে অলিখিতভাবে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ সমস্যার সমাধান চেয়ে ইআরএফের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয়েছে এবং দুই দফা চিঠি দেয়াসহ বিভিন্নভাবে এই সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও সমস্যার সমাধান না করে এখন বিভিন্ন ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।


ইআরএফ সভাপতি আরও বলেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই। সাংবাদিকেরা আগে নিজের কার্ড প্রদর্শন করে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারতেন। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাময়িক পাস দেয়া হতো, এখন তা বন্ধ করা হয়েছে। হঠাৎ করে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় নানা গুজবের ডালপালা মেলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, সে প্রশ্নও উঠছে।’


ইআরএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের আগের মতো অস্থায়ী পাস নিয়ে নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার দিতে হবে। যদি নিয়মতান্ত্রিক আলোচনায় প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেয়া না হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে।


বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারে কি না, তা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেনÑএমন প্রসঙ্গ তুলে ইআরএফ সভাপতি বলেন, ‘আমাদের জানতে হবে, অন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট অনেক সমৃদ্ধ। সেখানে অর্থনীতির সব সূচকের নিয়মিত হালনাগাদ ছাড়াও পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী, বিভিন্ন ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ সব ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হয়; কোনো সাংবাদিক প্রশ্ন করলে দ্রুত তার জবাব দেয়া হয়। আবার এসব দেশের আর্থিক খাতের সুশাসনের মাত্রা অনেক উঁচুতে। পদ্ধতিগত কারণে সেখানে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য আড়াল করা কঠিন। এছাড়া বেনামি ঋণ, ঋণখেলাপি, অর্থ পাচারকারী বা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কেউ কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারে বলে আমাদের জানা নেই। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বার সবার জন্য উš§ুক্ত রেখে কেবল সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার মাধ্যমে কি তথ্য আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছেÑআমরা সে প্রশ্ন রাখতে চাই।’

দাবি না মানা হলে কী কর্মসূচি দেয়া হবেÑএমন প্রশ্নের জবাবে ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম জানান, আগামী জাতীয় বাজেটের আগে যদি বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হয়, তাহলে বাজেটের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে অবস্থান ও সমাবেশ করা হবে। দাবি না মানা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর ও মুখপাত্রের সব ধরনের অনুষ্ঠান বর্জন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মিথ্যাচার-প্রোপাগান্ডামূলক বক্তব্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।


তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি একজন ডেপুটি গভর্নর পঞ্চগড়ে বলে আসছেন, যে সাংবাদিকদের বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশে বাধা নেই। এমন মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানাই। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রোপাগান্ডামূলক বক্তব্যও আমরা বর্জন করব।


বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন হারানোর কারণে আর্থিক খাতের দুরবস্থার কথা বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকের বক্তব্যে উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন ইআরএফ সভাপতি। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, তদারকি ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর চাপে নীতির ধারাবাহিকতা রাখতে না পারার বিষয়টি সবার জানা।


একইভাবে ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে তড়িঘড়িজনিত অস্থিরতা এবং ব্যাংক খাতের বর্তমান তারল্য-সংকটের বিষয়টি সবার জানা। এসব সমস্যার সমাধান না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে; এতে জনমনে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। তথ্যপ্রবাহ আটকানোর চেষ্টা দেশের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে; এটাও কারও কাম্য নয়।


সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে আগের মতো আর্থিক খাতের প্রকৃত তথ্য সবাইকে জানার সুযোগ দেয়ার জোর দাবি জানায় ইআরএফ।


খবরটি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য
Logo