মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এমনটা জানান তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, আমি মাদককে নির্মূল করতে চাই— এই জায়গা থেকে পুরো দৃষ্টি সরিয়ে দেয়া হয়েছে। নিজের নিরাপত্তার জন্য বৈধ অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলাম। কিন্তু নানা মহলে এই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে। আমি জমি দখল করতে যাইনি, চাঁদা উঠাতেও যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, যেদিন অভিযানে যাই সেদিন সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়েছিলাম। কোন সময় তারা আসবে, সেটিও তাদের জানিয়ে দিয়েছিলাম। আমার সেখানে প্রবেশ করার পর প্রায় ২৫-৩০ জন লোক ছুটাছুটি শুরু করে। আর একদল আমাদের দিকে আসতে থাকে। ওই সময় আমার নিরাপত্তার জন্য যে অস্ত্র সেটি আমার সঙ্গে ছিল, সেটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে হাতে রাখি, যাতে কোনোকিছু ঘটলে নিজেকে রক্ষা করতে পারি। কিন্তু কিছু গণমাধ্যমে ন্যারিটিভ তৈরি করে মূল ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়েছে।
ইশরাক বলেন, দেশের সুনামধন্য গণমাধ্যমগুলো এমন বিষয় প্রচার করার ফলে মাদক নির্মূলের বিরুদ্ধে যে অভিযান তার সবকিছুই ধামাচাপা পড়ে গেছে। এই অবস্থায় আজ আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করি। তার সঙ্গে আলোচনা করি এবং তাকে বলি- আপনি যে কাজগুলো করে চলেছেন, এখানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে দল যাতে বিব্রত না হয় সেজন্য আমি পদত্যাগ করতে চাই। এখন থেকে আমি আরও বেশি সক্রিয় হয়ে মাঠে নামব, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গেন্ডারিয়ার ওই জায়গাটি মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর এলাকাবাসী বারবার এই বিষয়টি উত্থাপন করে। পরে আমি এটি নিয়ে থানায় কথা বলি। থানায় বিষয়টি নিয়ে অনেক মিটিং করার পরও যখন কোনো সুরাহা আসছিল না, তখন একপর্যায়ে সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেটি করা যায়নি। এই অবস্থায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর আমি আমার মন্ত্রণালয়ে (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়) সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আবারও বসি, সেখানে দীর্ঘসময় আলোচনা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, যেহেতু পুলিশ বাহিনী যথেষ্ট ইক্যুইপ্ট না, অভ্যুত্থানের সময় অনেক যানবাহন পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, যথেষ্ট লোকবল নেই, তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে— একটি আন্দোলন গড়ে তুলব এবং এলাকাবাসী ও পুলিশকে নিয়ে সেই ঘুণ্টিঘর অভিযান চালাবো।
গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে খবর প্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো এবং তাদের কর্তব্যক্তিদের কাছ থেকে আমার আশা ছিল— আমার এই কার্যক্রমে হয়তো তারা কিছুটা সাহস দেবে, অনুপ্রেরণা দেবে। যাতে পরবর্তীকে মাদকের অন্যান্য স্পটগুলোও এভাবে চিহ্নিত করতে পারি। এ সময় অভিযানের মাধ্যমে কোনো ভুল হয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য