তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী চান ৪৭ শতাংশ
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে করা এক জরিপে দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর ভোটব্যাংকে তুলনামূলক অস্থিরতা রয়েছে এবং দলটির কিছু সমর্থক বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের মধ্য থেকেও বিএনপি বেশি সমর্থন পাচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইনোভিশন কনসালটিং তাদের গবেষণা পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (PEPS) রাউন্ড–৩–এর ফলাফল প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জরিপের প্রধান ড. রুবাইয়াত সারওয়ার বলেন, ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের মনোভাব, ভোটদানের ইচ্ছা এবং নির্বাচন পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পেতেই এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে।
১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্যানেল জরিপটি চালানো হয়। এতে মোট ৫ হাজার ১৪৭টি সফল সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। আগের দুই রাউন্ডের ২০ হাজার ৮০ জন উত্তরদাতার কাঠামো থেকে স্তরভিত্তিক র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে নমুনা নির্বাচন করা হয়। সারা দেশের ৫০০টি প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। চূড়ান্ত নমুনা নিশ্চিত করতে ১৫ হাজার ৬৪৯টি ফোনকল করা হলেও অংশ না নেওয়া বা যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় প্রায় ৬৮ শতাংশ ঝরে পড়ে। তথ্য সংগ্রহে কম্পিউটার সহায়তায় টেলিফোন সাক্ষাৎকার (CATI) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে এবং জাতীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ২০২২ সালের জনশুমারির ভিত্তিতে পোস্ট-সার্ভে ওয়েটিং প্রয়োগ করা হয়।
জরিপে বলা হয়, সামগ্রিকভাবে বিএনপি তাদের মূল সমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছিলেন এমন কিছু ভোটারের সমর্থনও পাচ্ছে। যদিও বিএনপি থেকে জামায়াতে এবং জামায়াত থেকে বিএনপিতে কিছু ভোট স্থানান্তর হয়েছে, মোট হিসাবের দিক থেকে পরিবর্তন জামায়াতের ক্ষেত্রেই বেশি, যা তাদের বর্তমান ভোটভাগে প্রভাব ফেলছে। এছাড়া জামায়াত ও এনসিপির জোটের কারণে এনসিপির কিছু ভোট বিএনপির দিকে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জরিপে আরও বলা হয়, জামায়াতের ভোটব্যাংক বিএনপির তুলনায় বেশি অস্থিতিশীল।
সম্ভাব্য ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে বিএনপি ও তাদের জোট, যেখানে জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে প্রায় ৩১ শতাংশ। বিএনপির সম্ভাব্য ভোটের ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে আগে সিদ্ধান্তহীন বা অনির্ধারিত ভোটারদের কাছ থেকে; বিপরীতে জামায়াতের ক্ষেত্রে এই হার ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন।
আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজ এলাকায় বিএনপির প্রার্থী জিততে পারেন বলে মনে করেন ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা, এ বিষয়ে অনিশ্চিত ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আগের আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন, ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে এবং ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।
জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেবেন। ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ মনে করেন সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে এবং ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতায় আস্থা প্রকাশ করেছেন। ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন বলে মনে করেন ৮২ শতাংশ, যা আগের রাউন্ডের তুলনায় বেশি।
ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নাম বলেছেন ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা। ২২ দশমিক ৫ শতাংশ শফিকুর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন এবং ২ দশমিক ৭ শতাংশ নাহিদ ইসলামকে বলেছেন। তবে ২২ দশমিক ২ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।
জরিপের উপসংহারে বলা হয়েছে, ভোটব্যাংকে এখনও অস্থিরতা রয়েছে এবং প্রচারণার কৌশল অনুযায়ী বিএনপি ও জামায়াত জোটের ব্যবধান কমে বা বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আসন বণ্টনে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইনোভিশন কনসালটিং একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক, ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। জরিপটির অর্থায়ন, নকশা ও বাস্তবায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আউটরিচ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে BRAIN এবং Voices for Reform; রাউন্ড–৩ যৌথভাবে অর্থায়ন করেছে এই দুই সংস্থা।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ এম. শাহান, Voices for Reform–এর যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিমা খাতুন, BRAIN–এর নির্বাহী পরিচালক শফিকুল রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জ্যোতি রহমান এবং ইনোভিশন কনসালটিংয়ের পোর্টফোলিও ডিরেক্টর তাসমিয়া রহমান বক্তব্য দেন।
১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্যানেল জরিপটি চালানো হয়। এতে মোট ৫ হাজার ১৪৭টি সফল সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। আগের দুই রাউন্ডের ২০ হাজার ৮০ জন উত্তরদাতার কাঠামো থেকে স্তরভিত্তিক র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে নমুনা নির্বাচন করা হয়। সারা দেশের ৫০০টি প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। চূড়ান্ত নমুনা নিশ্চিত করতে ১৫ হাজার ৬৪৯টি ফোনকল করা হলেও অংশ না নেওয়া বা যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় প্রায় ৬৮ শতাংশ ঝরে পড়ে। তথ্য সংগ্রহে কম্পিউটার সহায়তায় টেলিফোন সাক্ষাৎকার (CATI) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে এবং জাতীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ২০২২ সালের জনশুমারির ভিত্তিতে পোস্ট-সার্ভে ওয়েটিং প্রয়োগ করা হয়।
জরিপে বলা হয়, সামগ্রিকভাবে বিএনপি তাদের মূল সমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছিলেন এমন কিছু ভোটারের সমর্থনও পাচ্ছে। যদিও বিএনপি থেকে জামায়াতে এবং জামায়াত থেকে বিএনপিতে কিছু ভোট স্থানান্তর হয়েছে, মোট হিসাবের দিক থেকে পরিবর্তন জামায়াতের ক্ষেত্রেই বেশি, যা তাদের বর্তমান ভোটভাগে প্রভাব ফেলছে। এছাড়া জামায়াত ও এনসিপির জোটের কারণে এনসিপির কিছু ভোট বিএনপির দিকে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জরিপে আরও বলা হয়, জামায়াতের ভোটব্যাংক বিএনপির তুলনায় বেশি অস্থিতিশীল।
সম্ভাব্য ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে বিএনপি ও তাদের জোট, যেখানে জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে প্রায় ৩১ শতাংশ। বিএনপির সম্ভাব্য ভোটের ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে আগে সিদ্ধান্তহীন বা অনির্ধারিত ভোটারদের কাছ থেকে; বিপরীতে জামায়াতের ক্ষেত্রে এই হার ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন।
আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজ এলাকায় বিএনপির প্রার্থী জিততে পারেন বলে মনে করেন ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা, এ বিষয়ে অনিশ্চিত ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আগের আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন, ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে এবং ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।
জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেবেন। ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ মনে করেন সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে এবং ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতায় আস্থা প্রকাশ করেছেন। ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন বলে মনে করেন ৮২ শতাংশ, যা আগের রাউন্ডের তুলনায় বেশি।
ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নাম বলেছেন ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা। ২২ দশমিক ৫ শতাংশ শফিকুর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন এবং ২ দশমিক ৭ শতাংশ নাহিদ ইসলামকে বলেছেন। তবে ২২ দশমিক ২ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।
জরিপের উপসংহারে বলা হয়েছে, ভোটব্যাংকে এখনও অস্থিরতা রয়েছে এবং প্রচারণার কৌশল অনুযায়ী বিএনপি ও জামায়াত জোটের ব্যবধান কমে বা বাড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আসন বণ্টনে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইনোভিশন কনসালটিং একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক, ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। জরিপটির অর্থায়ন, নকশা ও বাস্তবায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আউটরিচ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে BRAIN এবং Voices for Reform; রাউন্ড–৩ যৌথভাবে অর্থায়ন করেছে এই দুই সংস্থা।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ এম. শাহান, Voices for Reform–এর যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিমা খাতুন, BRAIN–এর নির্বাহী পরিচালক শফিকুল রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জ্যোতি রহমান এবং ইনোভিশন কনসালটিংয়ের পোর্টফোলিও ডিরেক্টর তাসমিয়া রহমান বক্তব্য দেন।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য