নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকা ও মিয়ানমার সীমান্তে পর্যাপ্ত বাহিনী অবস্থান করছে, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকে।আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে দায়িত্ব পালনের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এ এস এম আবুল এহসান এই তথ্য জানিয়েছেন।তিনি জানান, ‘বিজিবি মহাপরিচালকের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের সময় মারণাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।’নির্বাচন চলাকালে বাংলাদেশ–মিয়ানমার ও বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকা ও মিয়ানমার সীমান্তে পর্যাপ্ত বাহিনী অবস্থান করছে, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকে।
প্রত্যন্ত ও চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করা হবে বলেও জানান তিনি, যাতে কোনো এলাকা অনিরাপদ বা অনিরীক্ষিত না থাকে।
এত ব্যাপক প্রস্তুতির কারণ জানতে চাইলে ঢাকা সেক্টর কমান্ডার বলেন, এই প্রস্তুতির মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো পক্ষ যেন কোনো দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।নির্বাচন ঘিরে কোনো নির্দিষ্ট আশঙ্কা দেখছেন কি না- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি কোনো বিশেষ হুমকি দেখতে পাচ্ছি না। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সদস্যদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ন্যূনতম শক্তি ব্যবহারের নীতিই অনুসরণ করা হবে।এছাড়া নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং বিশেষায়িত কে–৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিট প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।বিজিবি সদর দফতর সূত্র জানায়, নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ সময় দেশের চার হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই সারাদেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। ভোটাররা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন- সে লক্ষ্যেই এই মোতায়েন।সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবে এই বাহিনী। ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের সব সংসদীয় আসনে বিজিবি ভ্রাম্যমাণ ও স্থির বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। উপজেলাভেদে দুই থেকে চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য