সর্বশেষ:
News Image মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ News Image দেশে ষড়যন্ত্র চলছে সকলে সজাগ থাকবেন: তারেক রহমান News Image শিরককারী-মুনাফেকদের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে হবে: তারেক রহমান News Image তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজর পড়বেন: তারেক রহমান News Image এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না News Image পেট্রোলবোমায় ৮ যাত্রী হত্যার আসামি আ.লীগ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা শুরু জামায়াত নেতা তাহেরের News Image সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে : সেনাপ্রধান News Image ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি: প্রেস সচিব News Image সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১,৯৮১ জন প্রার্থী News Image বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল ইরান News Image বিশ্ব গণমাধ্যমে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর News Image পুরনো নিয়মেই নতুন দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দিল অন্তর্বর্তী সরকার News Image শাহজালালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এনসিপির দুর্ব্যবহার, বর্জন সংবাদ সম্মেলন News Image স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিটিভি-বাংলাদেশ বেতার News Image সংবাদপত্রে ঈদুল আজহার ছুটি ৫ দিন News Image গণমাধ্যমে ঈদের ছুটি ৫ দিন ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের দাবি News Image কেবল সাংবাদিকরাই পাবেন অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড : প্রেস সচিব News Image দীপ্ত টিভির সংবাদ প্রচার বন্ধ, ৩ সাংবাদিক চাকরিচ্যুত News Image ‘যায়যায়দিন’ পত্রিকার ডিক্লেয়ারেশন ফিরে পেলেন শফিক রেহমান News Image বিচার নিয়ে এখনও অন্ধকারে সাগর-রুনির পরিবার
Babul K.

প্রধান প্রতিবেদক


প্রকাশিত :
১১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৫১ পিএম

মোট পঠিত: ২৭৫

বাংলাদেশের নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য খারাপ দিন

Babul K.
বাংলাদেশের নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য খারাপ দিন
মিডিয়া
দ্য গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয়

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য সেরা ও সবচেয়ে খারাপ সময় নিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার টানা ১৫ বছরের শাসনামলে চরম দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং মাথাপিছু জিডিপি বেড়েছে ৩০০ শতাংশেরও বেশি। একদলীয় রাষ্ট্রের উত্থানের ফলে এই চিত্তাকর্ষক পারফরমেন্স কমেছে। গত বছর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভের পর এ প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত নভেম্বরে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, সাধারণ নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতা ও সমর্থকদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে, এমনকি হত্যাও করা হচ্ছে।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসে। এটি একটি ফাঁকা বিজয় ছিল, কারণ ১০ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র চারজন ভোট দিয়েছিলেন। এ বছর ৮০টি দেশে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, বছরের শুরুতে যেন গণতন্ত্র হারিয়ে গেল। লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মতে, নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু ছিল না। তবুও ভারত ও চীন উভয় দেশেই ঢাকার বন্ধু রয়েছে, যারা শেখ হাসিনার বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছে।

৯০-এর দশকে সামরিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ একটি নির্বাচনী গণতন্ত্রে পরিণত হয়। এরপর থেকে উৎপাদন এবং টেক্সটাইল খাতগুলো বিকশিত হয়েছে। বৃহত্তর প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে ভালো আয়ু এবং নারী কর্মসংস্থান রয়েছে। এমন রাজনীতি সত্ত্বেও এই সাফল্য এসেছে। বাংলাদেশের প্রধান দুটি দলই সরকার ও অনুগত বিরোধী দলের মতো আচরণ করে না। বরং স্বাধীনতা আন্দোলনের আদর্শিক উত্তরাধিকারী হিসেবে কাজ করে, যা জাতির জন্ম দিয়েছে। বিএনপি নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ এবং গৃহবন্দী। তার মিত্ররা হয় জেলে আছে অথবা নির্বাসনে আছে। শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে কারাগারে থাকার পর ক্ষমতায় আসেন।

উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ববাদী মোড় হয়তো গতানুগতিক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়িয়ে সুশীল সমাজের জগতে প্রবেশ করেছে, যাকে অনেক বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশের সাফল্যের কারণ হিসেবে দেখছেন। সাইক্লোন, গৃহযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষের মধ্যে জন্ম নেওয়া একটি দেশে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও চাকরির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনীতিবিদদের চেয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) বেশি কাজ করেছে। দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও ব্র্যাকের আবাসস্থল, যে এনজিওর বিশ্বব্যাপী পদচিহ্ন রয়েছে এবং বার্ষিক আয় ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার ঠিক আগে সতর্কতার ঘণ্টা বেজে ওঠে। গত গ্রীষ্মে বারাক ওবামাসহ বিশ্বের ১৭০ জন ব্যক্তিত্ব ইউনূসের বিরুদ্ধে 'ক্রমাগত বিচারিক হয়রানি' বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার কৃতিত্ব পাওয়া ৮৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে তখন থেকেই প্রধানমন্ত্রী 'দরিদ্রদের রক্ত চোষা' বলে অভিযোগ তুলেছেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে 'বিজয়ীরাই সবকিছু কেড়ে নেবে' - এমন মানসিকতা কাজ করে না। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বোধ থাকতে হবে, যাতে বিরোধীরা রাস্তায় না নেমে প্রাক্তনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারে। শেখ হাসিনার বয়স ৭৬ বছর। বিএনপির খালেদা জিয়ার বয়স ৭৮ বছর। উভয়কেই বুঝতে হবে যে, তাদের দেশ যে দিকে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে তারা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উভয়ের কাছে এই বার্তা পৌঁছানো শুরু করা অবশ্যই ভালো। সরকারকে অবশ্যই ভয়ের পরিবেশ দূর করতে হবে এবং বিরোধী দলকে গঠনমূলকভাবে পুনরায় সম্পৃক্ত হতে হবে। বাংলাদেশের মতো জটিল সমাজে, যেখানে প্রতিযোগিতামূলক দাবিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করা প্রয়োজন, সেখানে দীর্ঘমেয়াদী গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার চেয়ে স্বৈরতন্ত্রকে প্রাধান্য দেওয়া বোকামি হবে।


খবরটি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য
Logo