সর্বশেষ:
News Image চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি : মির্জা আব্বাস News Image ভারতে নিপাহ ভাইরাস আতঙ্ক, এশিয়াজুড়ে সতর্কতা News Image নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ফের ডিম নিক্ষেপ News Image একাত্তরের বন্ধু বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি মারা গেছেন News Image গ্রেটার নোয়াখালীর সাথে রয়েছে একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক: তারেক রহমান News Image মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ News Image দেশে ষড়যন্ত্র চলছে সকলে সজাগ থাকবেন: তারেক রহমান News Image শিরককারী-মুনাফেকদের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে হবে: তারেক রহমান News Image তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজর পড়বেন: তারেক রহমান News Image এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না News Image পেট্রোলবোমায় ৮ যাত্রী হত্যার আসামি আ.লীগ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা শুরু জামায়াত নেতা তাহেরের News Image সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে : সেনাপ্রধান News Image ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি: প্রেস সচিব News Image সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১,৯৮১ জন প্রার্থী News Image বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল ইরান News Image বিশ্ব গণমাধ্যমে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর News Image পুরনো নিয়মেই নতুন দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দিল অন্তর্বর্তী সরকার News Image শাহজালালে সাংবাদিকদের সঙ্গে এনসিপির দুর্ব্যবহার, বর্জন সংবাদ সম্মেলন News Image স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিটিভি-বাংলাদেশ বেতার News Image সংবাদপত্রে ঈদুল আজহার ছুটি ৫ দিন
Babul K.

প্রধান প্রতিবেদক


প্রকাশিত :
০২ জুন ২০২৪, ০৭:১৭ এএম

মোট পঠিত: ২৯৭

এই প্রথম লোহার খাঁচায় দাঁড়াতে হলো: ড. ইউনূস

Babul K.
এই প্রথম লোহার খাঁচায় দাঁড়াতে হলো: ড. ইউনূস
আইন-আদালত

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়েছে আজ। এ জন্য ঢাকার আদালতের এজলাসকক্ষে আসামিদের জন্য তৈরি করা লোহার খাঁচায় (আসামির কাঠগড়া) দাঁড়াতে হয়েছিল এই নোবেল বিজয়ীকে। এই অভিজ্ঞতাকে ‘অভিশপ্ত জীবনের অংশ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ আজ এই মামলার শুনানি হয়। বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেন ১২ জুন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য দিন রেখেছেন।

ড. ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শুনানির শুরুতে আদালত ড. ইউনূস ছাড়া বাকি আসামিদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বলেন। তখন ড. ইউনূস বলেন, তার জন্য অন্যদের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাই তিনি নিজেও লোহার খাঁচায় তৈরি আসামির কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান। মিনিট দুয়েক পর সবাই বিচারকের অনুমতি নিয়ে এজলাসকক্ষের বেঞ্চে গিয়ে বসেন।


শুনানি শেষে দুপুরে ঢাকার আদালত চত্বরে ড. ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, ‘লোহার খাঁচার তৈরি আসামির কাঠগড়া তো অপমানজনক। অপমান করার জন্য এটি করা হয়েছে। এটা তো আর সম্মান দেওয়ার জন্য বানানো হয়নি। অপমানের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বানানো হয়েছে। আজ আমি অভিশপ্ত জীবনের শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছেছি। এই প্রথম আমাকে লোহার খাঁচায় দাঁড়াতে হলো।’


বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাকে হয়রানি না করতে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শতাধিক নোবেল বিজয়ীসহ সাবেক ও বর্তমান অনেক রাষ্ট্রপ্রধান।


তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার মধ্যে কোনো সত্যতা নেই। যে জিনিস আমি দিয়ে দিয়েছিলাম, সেটার জন্য আমাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। আমার সঙ্গীরা আজ অভিশপ্ত। এটা আমার মনে কঠিনভাবে দাগ কেটেছে। আমার পরিবারকে আক্রমণ করেছে। আমার বাবাকে আক্রমণ করেছে। এটা আমার কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এটা আমার অভিশপ্ত জীবনের অংশ।’


গ্রামীণ টেলিকমের কর্মীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা এই মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।


ড. ইউনূস ছাড়া অভিযোগপত্রে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান; পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম এবং এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, আইনজীবী মো. ইউসুফ আলী ও জাফরুল হাসান শরীফ; গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান, শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম এবং জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক মো. কামরুল হাসানকে আসামি করা হয়।


অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে কামরুল হাসানের নাম তদন্তের পর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অপর ব্যক্তিদের নাম এজাহারে ছিল। দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে গত বছরের ৩০ মে মামলাটি করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিরা ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ।


৮৪ বছর বয়সী মুহাম্মদ ইউনূস জীবনের এই সময়ে এসে মামলাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়া নিয়ে এর আগেও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। আজ তিনি বলেছেন, লোহার খাঁচার তৈরি আসামির কাঠগড়াকে দেখছেন প্রতীকী হিসেবে।

তিনি আসলে এক ‘অভিশপ্ত জীবন’ বয়ে বেড়াচ্ছেন উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘এখানে আমার কিছু করার নেই। এটা দেব–দেবীর ইচ্ছা। দেব-দেবী ঠিক করেন কাকে অভিশাপ দিতে হবে।’


এই ‘অভিশপ্ত জীবনের’ ব্যাখ্যা দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি বসে বসে চিন্তা করছিলাম, মহাকাব্যে কিছু দেব–দেবী থাকে। তারা অভিশাপ দেয়। যাদের অভিশাপ দেয়, তারা অভিশপ্ত জীবনযাপন করে। আমিও মনে হয়, কোনো মহাকাব্যের অংশ হয়ে গেছি। কোনো দেব–দেবী আমার ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছে। তাদের অভিশাপের কারণে আজ আমি এখানে।’


ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমাকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়াটা ছিল আমার অভিশপ্ত জীবনের অংশ। আমার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে, তদন্ত কমিশন হয়েছে। আজ আমি অভিশপ্ত জীবনের বড় পর্যায়ে পৌঁছে গেছি। বন্ধুরা যদি দেখত আমি লোহার খাঁচার মধ্যে আছি, তাদের অনেক খারাপ লাগত।’



খবরটি নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মতামত দিন
০ টি মন্তব্য
Logo